kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শুধু অঙ্গীকার নয়, এখনই পদক্ষেপ চান বিজ্ঞানীরা

১০ বছরের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ অর্ধেকে নামাতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুধু অঙ্গীকার নয়, এখনই পদক্ষেপ চান বিজ্ঞানীরা

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় চলমান কপ-২৬ শীর্ষক জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন আগামীকাল শুক্রবার শেষ হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চুক্তি আর অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েছে বিভিন্ন দেশ, গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠান। তবে তাতে বিজ্ঞানীদের দুশ্চিন্তা কাটেনি। কারণ তাঁদের হিসাবে, বিশ্বকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য ওই সব অঙ্গীকার যথেষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন

তাই অঙ্গীকারগুলো সময়োপযোগী ও অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা জরুরি বলে মনে করেন তাঁরা।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাত্রা প্রাক-শিল্প বিপ্লব যুগের তুলনায় দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ২০৫০ থেকে ২১০০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু সময়সীমার বিচারে কার্বন নিঃসরণ বন্ধের এ লক্ষ্যমাত্রা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, আগামী দশকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক মার্ক ম্যাসলিন বলেন, ‘আগামী ১০ বছরের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনার ব্যাপারে বিশ্বের সরকারগুলোকে অবশ্যই সম্মতি দিতে হবে। ’

শুধু অধ্যাপক ম্যাসলিন নন, আরো অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, ২০৫০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক মার্টিন সিগার্ট বলেন, ‘কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে যত দেরি করা হবে, ২০৫০ সালের শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ততই কঠিন হয়ে উঠবে। ’

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উপায় নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কার্বন নিঃসরণ রোধে সরকারগুলোর ওপর নয়, বরং ভোক্তা ও কম্পানি পর্যায়ে বৈশ্বিক কার্বন ট্যাক্স আরোপ কার্যকর উপায় হতে পারে বলে তাঁদের অভিমত। বিশ্বব্যাপী কম্পানিগুলো যেন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে বিনিয়োগ করে, সে জন্য কার্বন ট্যাক্স আদায়ের পাশাপাশি প্রণোদনা নিশ্চিত করা এবং আচরণগত পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিয়েছেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা ড্যানি কাইরিয়াকোপুলু।

পাশাপাশি দরিদ্র দেশগুলোকে আরো সহায়তা দেওয়ার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের গবেষক ড. আদিত্য বাহাদুর জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ব্যাপারে বলেন, ‘পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য তাদের আরো সম্পদ দরকার। তাদের দরকার জ্ঞান আর তথ্য, দরকার বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি। চাই সুরক্ষামূলক অবকাঠামো। ’

জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার দরিদ্র দেশগুলোর জন্য প্যারিস চুক্তিতে ২০২০ সালের মধ্যে বছরে ১০ হাজার কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল উন্নত বিশ্ব। কিন্তু সেই অঙ্গীকার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। উন্নত বিশ্বের অঙ্গীকার পূরণে সীমাবদ্ধতার পরিপ্রেক্ষিতেই সহায়তা নিশ্চিত করার কথা বলেন ড. আদিত্য।

কপ-২৬ যেন শুধু অঙ্গীকারের সম্মেলন হয়ে না থাকে, তেমন প্রত্যাশা অনেক বিজ্ঞানীর। ইউনিভার্সিটি অব ঘানার বিজ্ঞানী ড. নানা আমা ব্রাউনে ক্লুটসে বলেন, ‘কপ-২৬ থেকে ভালো অনেক কিছু আসবে বলে আমি আশাবাদী। ’ জাতিসংঘের এ বছরের জলবায়ু প্রতিবেদনে ভূমিকা রাখা বিজ্ঞানীদের একজন ক্লুটসে বলেন, ‘এ মহামারির বিরুদ্ধে সবাই লড়তে চেয়েছে। গোটা বিশ্ব যেন এক হয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধেও সবাই এভাবেই লড়াই করুক, সেটাই আমি চাই। অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বের সবাইকে একসঙ্গে লড়াইটা করতে হবে। ’ সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা