kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ

অস্ট্রেলিয়ার ‘ত্রুটিপূর্ণ’ অঙ্গীকারের সমালোচনা

জীবাশ্ম জ্বালানি খাত বন্ধ করা হবে না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা পূরণে অস্ট্রেলিয়ার  অঙ্গীকারকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলছেন সমালোচকরা। অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিস্তারিত পরিকল্পনা না থাকা এর অন্যতম কারণ। শিল্পোন্নত অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলোর অন্যতম।

যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় ৩১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কপ২৬ শীর্ষক জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন। এ সম্মেলনের আগে অস্ট্রেলিয়া জানাল, দেশটিতে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা হবে ২০৫০ সাল নাগাদ।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ২০৫০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ প্রাকশিল্পবিপ্লব যুগের তাপমাত্রার তুলনায় দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। এজন্য কার্বন নিঃসরণের হার ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমানো এবং ২০৫০ সালের মধ্যে তা শূন্যে নামিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে সেই চুক্তি হলেও বিশ্বের অন্যতম প্রধান কয়লা ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া এতদিন সে বিষয়ে তেমন সাড়াশব্দ করেনি। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়া ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৩০-৩৫ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনায় শূন্য কার্বন নিঃসরণের পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে সেটা নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। আবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন স্পষ্ট ভাষায় একথাও জানিয়ে দিয়েছেন যে, কার্বন নিঃসরণ বন্ধের মানে এই নয় যে অস্ট্রেলিয়া ২০৫০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি খাত পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। মরিসন বলেছেন, ‘কয়লা অথবা গ্যাসের উৎপাদন বা রপ্তানি কোনোটাই বন্ধ করা হবে না। কোনো কর্মসংস্থান নষ্ট করা হবে না। না কৃষিতে না খনি বা গ্যাসে।’ 

সব মিলিয়ে জলবায়ু ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়ার এ ঘোষণাকে তাই অন্তঃসারশূন্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবানল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জো ফন্টেইন বলেন, ‘কাগজের ব্যাগ ভিজে গেলে তার শক্তি যেমন দাঁড়ায়, মরিসনের পরিকল্পনার শক্তি তার চেয়ে বেশি কিছু নয়।’

তবে প্রধানমন্ত্রী মরিসন সমালোচকদের কথায় তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। গতকাল এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘যারা অস্ট্রেলিয়াকে বোঝে না, তাদের উপদেশ আমরা নেব না। অস্ট্রেলীয়রা নিজেদের মত করেই কাজ করে এবং তাদের কাজে অনিশ্চয়তার কোনো জায়গা নেই। তারা লক্ষ্য পূরণ করবেই।’

সূত্র: এএফপি, বিবিসি।



সাতদিনের সেরা