kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

সুদানে অভ্যুত্থানবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ, সেনাদের গুলি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুদানে অভ্যুত্থানবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ, সেনাদের গুলি

সুদানের রাজধানী খার্তুমে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো চলে অভ্যুত্থানবিরোধীদের বিক্ষোভ। ছবি : এএফপি

সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভকালে সেনাদের গুলি ও হতাহতের পরও রাজপথ ছাড়েনি বিক্ষুব্ধরা। এদিকে অভ্যুত্থান ঘটানোর পর গতকাল প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গান জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহান।

গত সোমবার ভোররাতে সুদানের সেনাবাহিনী প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লা হামদক ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের গ্রেপ্তার করে। এর কয়েক ঘণ্টা পর জেনারেল বুরহান সম্প্রচার মাধ্যমে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বিলুপ্ত করে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।’

অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় নেমে আসে সেনা শাসনবিরোধীরা। গতকাল বিকেল পর্যন্ত সেনা সদস্যদের গুলিতে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে সুদানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানায় রয়টার্স। সংবাদ সংস্থা এএফপি মৃত্যুর সংখ্যা চার বলে জানায়। আহত হয়েছে শতাধিক। গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো চলতে থাকে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ। রাজধানী খার্তুমে বিক্ষোভকারীরা ‘সেনা শাসন মানব না’, ‘বিপ্লব চলবে’, ‘অতীতে ফেরা সমাধান নয়’ এসব স্লোগান দিতে থাকে।

সুদানের অভ্যুত্থানের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসার আহবান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন, আরব লিগ বিবৃতি দিয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সুদানের প্রধানমন্ত্রী হামদককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহবান জানানো হয়েছে।

এর মধ্যে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেন জেনারেল বুরহান। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী হামদককে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি ‘আমার বাড়িতে আছেন’ এবং ‘ভালো আছেন’। সংকট কেটে গেলে তাঁকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হবে, বলেন জেনারেল বুরহান। এই সামরিক নেতা আরো দাবি করেন, দেশে গৃহযুদ্ধ এড়াতেই তিনি অন্তর্বর্তী সরকার বিলুপ্ত করেছেন। রাজনীতিকরা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছেন, এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড অভ্যুত্থানের পর্যায়ে পড়ে না, বরং সেনাবাহিনী রাজনৈতিক পরিবর্তনের গতিপথ শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

২০১৯ সালে সুদানের দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে সরিয়ে সামরিক-বেসামরিক ক্ষমতা ভাগাভাগির সরকার দেশ পরিচালনা শুরু করেছিল। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণতন্ত্রের পথে উত্তরণে দেশটিকে সহায়তা করবে, অনেকে এমন আশা করলেও গত সোমবারের অভ্যুত্থানে সেই আশা মিলিয়ে গেছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

তবে এখনই রাজপথ ছাড়তে রাজি নয় সেনা শাসনবিরোধীরা। ৩২ বছর বয়সী হিশাম আল-আমিন বলেন, ‘বেসামরিক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে তবেই আমরা সরব। সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগিতে আমরা আর কখনোই রাজি হব না।’

সুদানের অন্তর্বর্তী সরকার পশ্চিমা গোষ্ঠীর সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফেরার এবং তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করে আসছিল। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় সামরিক-বেসামরিক উভয় পক্ষের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হতে থাকে। অবশেষে সামরিক অভ্যুত্থানের কবলে পড়তে হলো আফ্রিকার এ দেশটিকে। সুদানের গণতন্ত্রে উত্তরণের প্রত্যাশার ক্ষেত্রে এটা দুঃসংবাদ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।



সাতদিনের সেরা