kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

কপ-২৬ সম্মেলনের সভাপতির সতর্কবার্তা

সফলতা পাওয়া প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের চেয়ে কঠিন হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সফলতা পাওয়া প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের চেয়ে কঠিন হবে

অলোক শর্মা

গ্লাসগোতে আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের সভাপতি যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী অলোক শর্মা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এবারের সম্মেলন সফল হওয়া ২০১৫ সালের প্যারিসের আলোচনার চেয়ে ‘নিঃসন্দেহে কঠিন’ হবে। গতকাল শনিবার গার্ডিয়ান পত্রিকাকে অলোক শর্মা এ কথা বলেন।

২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্যারিসের ওই সম্মেলনের পর এবার স্কটল্যান্ডের বাণিজ্যিক রাজধানী গ্লাসগো শহরে হচ্ছে সবচেয়ে বড় জলবায়ু সম্মেলন, যা চলবে ৩১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত।

ক্যাবিনেট অফিসের মিনিস্টার অব স্টেট অলোক শর্মা বলেন, প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে তাপমাত্রা বাড়ার হার দেড় ডিগ্রির নিচে সীমাবদ্ধ রাখতে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের কাছ থেকে কার্বন নিঃসরণ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি আদায় হবে এক গুরুতর কাজ।

কপ-২৬ হিসেবে পরিচিত এবারের জলবায়ু সম্মেলনের সভাপতিত্ব করার প্রয়োজনে বাণিজ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়া অলোক শর্মা বলেন, ‘আমরা গ্লাসগোতে যা করার চেষ্টা করতে যাচ্ছি, তা আসলেই হবে কঠিন কাজ।’ তিনি বলেন, ‘প্যারিসে যা করা সম্ভব হয়েছিল, তা ছিল সত্যিই চমৎকার। তবে অনেক খুঁটিনাটি বিধি-বিধান তখন না করে ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল।’

অলোক শর্মা আরো বলেন, ‘আমরা যেন একটি পরীক্ষার শেষ সময়ে পৌঁছে গেছি, অথচ সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়াই বাকি রয়েছে। এদিকে সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এটি অনেক দিক বিবেচনায়ই নিঃসন্দেহে প্যারিসের চেয়ে কঠিন।’

কাজটি অবশ্যই আরো কঠিন হচ্ছে, কারণ চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না। তাঁরা প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন মাত্র। চীন ও রাশিয়ার স্থান বেশি কার্বন নিঃসরণকারীদের মধ্যে শীর্ষের দিকেই।

১২০টিরও বেশি দেশের নেতারাসহ প্রায় ২৫ হাজার প্রতিনিধি গ্লাসগো সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্যারিস চুক্তিতে বিশ্বের ১৯৭টি দেশ বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ২ ডিগ্রির নিচে রাখার বিষয়ে একমত হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমাতে তাদের ‘জাতীয় ভিত্তিতে নির্ধারিত অবদান’ (এনডিসি) পর্যাপ্ত ছিল না বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে। এনডিসি হচ্ছে জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে প্রতিটি দেশের নিজস্ব জাতীয় পরিকল্পনা। এসব জাতীয় পরিকল্পনা জোরদার করা হবে কপ-২৬-এর আলোচনার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অলোক শর্মা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশ চীনকে তাদের এনডিসি উপস্থাপনের আহ্বান জানান। পাশ্চাত্যের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের টানাপড়েন জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা।

সৌদি আরবের লক্ষ্যমাত্রা : এদিকে বিশ্বের শীর্ষ অশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব গতকাল বলেছে, ২০৬০ সালের মধ্যে তারা কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করছে।

প্রচুর খনিজ তেল উৎপাদনকারী সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বড় দূষণকারী দেশ।

সৌদি গ্রিন ইনিশিয়েটিভ ফোরামে পাঠানো রেকর্ড করা বার্তায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ‘আমি আজ ঘোষণা করছি, সৌদি আরব ২০৬০ সালের মধ্যে তার কার্বন নিঃসরণের হার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করছে।’

সৌদি আরবের প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে বিবেচিত তরুণ নেতা সালমান আরো বলেন, তাঁর দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক নিঃসরণের পরিমাণ ২৭৮ মিলিয়ন টন কমাবে।  সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা