kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

জো বাইডেন বললেন

তাইওয়ানকে চীনের হাত থেকে বাঁচাবে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটনকে সতর্কভাবে কথা বলার আহ্বান চীনের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাইওয়ানকে চীনের হাত থেকে বাঁচাবে যুক্তরাষ্ট্র

চীন হামলা চালালে তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্র রক্ষা করবে এবং এ ব্যাপারে ওয়াশিংটন অঙ্গীকারবদ্ধ, এমন মন্তব্য করেছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এর পাল্টা জবাবে চীন বলেছে, দেশের মূল স্বার্থের সঙ্গে জড়িত ইস্যুতে তাদের আপস করার কোনো সুযোগ নেই। চীনের দৃঢ় সংকল্প ও সামর্থ্যকে অবমূল্যায়ন করা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নয়। বাইডেনের ওই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে চীন।

গতকাল শুক্রবার সিএনএন টাউন হলে বাইডেনকে প্রশ্ন করা হয়, চীন যদি আক্রমণ করে তবে তাইওয়ানকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আসবে কি না। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ। এ ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

পশ্চিমা গণতান্ত্রিক কায়দায় শাসিত তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র বিবেচনা করে। আর চীন মনে করে, এটি তাদের নিজেদেরই অংশ। চীনের মূল ভূখণ্ডে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর জাতীয়তাবাদীরা তাইওয়ানে চলে যায়। তখন থেকেই তাইওয়ান ভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথে চলছে। তবে স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ান কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করেনি। চীন-তাইওয়ান পুনরেকত্রীকরণের জন্য প্রয়োজনে বল প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি বেইজিং।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বলেন, তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের ‘শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণ’ সম্ভব এবং তা হতেই হবে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার চীনের আক্রমণ থেকে তাইওয়ানকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে জো বাইডেনের এই বক্তব্য তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে খাপ খায় না। ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ হিসেবে পরিচিত ওই নীতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরিতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু যুদ্ধ হলে দ্বীপটিকে সাহায্য করার জন্য স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।

চীনের আক্রমণ থেকে তাইওয়ানকে রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করা থেকে তাইওয়ানকে নিরুৎসাহ করার লক্ষ্যে ওই নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে, যাকে বেইজিং ‘সর্বশেষ সীমারেখা’ হিসেবে বিবেচনা করে।

জো বাইডেনের ওই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে তাইওয়ান। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র জেভিয়ের চ্যাং বলেন, কাজের মধ্য দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন প্রমাণ করেছে।

এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেছেন, ‘মূল স্বার্থের সঙ্গে জড়িত ইস্যুতে চীনের আপস করার কোনো সুযোগ নেই। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চীনের দৃঢ় সংকল্প, ইচ্ছা এবং সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নয়।’

এর আগে গত আগস্টে এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন তাইওয়ান ইস্যুতে একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, তাইওয়ানসহ মূল মিত্রদের সব সময়ই রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পবিত্র প্রতিশ্রুতি’ রয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য।

আগস্টের ওই বক্তব্য এবং গতকালের বক্তব্যের পরও হোয়াইট হাউস বলেছে, তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। গতকালও ্বাইডেনের বক্তব্যের পর হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নীতিতে কোনো পরিবর্তন ঘোষণা করছে না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাইওয়ান বিষয়ে জো বাইডেন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেওয়ার চেষ্টা করছেন না। এটা শুধু তাঁর ‘মুখের কথা’। সম্প্রতি তাইওয়ানে চীন সামরিক হয়রানি বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভবত ইচ্ছাকৃতভাবে বাইডেন কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন।

সম্প্রতি তাইওয়ানের আকাশসীমায় চীনের ব্যাপকসংখ্যক যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশ ঘটে। চলতি মাসের প্রথম চার দিনে ১৫০টির বেশি যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের আকাশের প্রতিরক্ষা অঞ্চলে প্রবেশ করে।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।



সাতদিনের সেরা