kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন আগামী সেপ্টেম্বরে

ফের দলের হাল ধরার ইঙ্গিত রাহুলের

বর্তমানে আমিই কংগ্রেসের পূর্ণকালীন সভাপতি সোনিয়া গান্ধী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারতে কংগ্রেস দলের পূর্ণকালীন সভাপতি এখন সোনিয়া গান্ধী। গতকাল শনিবার কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে একথা জানান খোদ সোনিয়াই। তিনি দলের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পূর্ববিজ্ঞপ্তি অনুসারে গতকাল রাজধানী নয়াদিল্লিতে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হয় কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। সূত্র জানায়, আগামী বছর সেপ্টেম্বরে কংগ্রেসের সভাপতি পদের জন্য নির্বাচন হবে। এর আগ পর্যন্ত দলের নেতৃত্ব নিয়ে যেন কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকে, সে জন্য গতকাল সোনিয়া গান্ধী সাফ জানিয়ে দেন, তিনিই হচ্ছেন দলের ‘পূর্ণ সময়ের সভাপতি’।

এদিনের বৈঠকে সোনিয়া আরো বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের মারফত আমাকে বার্তা দেওয়ার দরকার নেই।’ পাশাপাশি সোনিয়া বলেন, ‘সঠিকভাবে আলোচনা হওয়া উচিত। তবে এই ঘরের যে সিদ্ধান্তই বাইরে যাক না কেন, তা যেন কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হয়।’

কপিল সিব্বল, গুলাম নবী আজাদের মতো নেতারা সভাপতি হিসেবে স্থায়ী কাউকে চেয়ে বারবার দাবি জানাচ্ছিলেন। মুখ খুলছিলেন সংবাদমাধ্যমের সামনেও। এত দিন এ নিয়ে একটি কথাও বলেননি সোনিয়া। গতকাল কংগ্রেসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সেই বিক্ষুব্ধ নেতাদের নিশানা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি অনুমতি দেন, তা হলে আমি কংগ্রেসের পূর্ণ সময়ের সভানেত্রী হতে পারি। আমি বরাবরই খোলামেলা পরিবেশে বিশ্বাস রেখে এসেছি। তাই সংবাদমাধ্যমের মারফতে আমার সঙ্গে কথা বলার কী প্রয়োজন?’

গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং শারীরিক অসুস্থতার জন্য উপস্থিত থাকতে পারেননি। এ ছাড়া দিগ্ব্বিজয় সিংসহ আরো চার কংগ্রেস নেতা বৈঠকে উপস্থিত হননি বলে জানা গেছে। মোট ৫২ জন কংগ্রেস নেতা এই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।

দলের নতুন সভাপতি, ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা এবং পরের বছরে রাজ্যগুলোর নির্বাচন নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হবে বলে আগেই জানানো হয়েছিল। গত ৯ অক্টোবর কংগ্রেসের তরফে বিবৃতি জারি করে ১৬ অক্টোবরের এই ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের ব্যাপারে জানানো হয়। কভিড মহামারির দাপট শুরুর পর থেকেই এই বৈঠক নিয়ে বারবার আলোচনা হলেও কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হচ্ছিল না।

গত মাসেই পাঞ্জাবে অমরিন্দর সিংয়ের পরিবর্তে চরণজিৎ সিং চান্নিকে মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেয় কংগ্রেস। চরণজিৎ সিং চান্নিই হলেন পাঞ্জাবের প্রথম দলিত মুখ্যমন্ত্রী। তখনই কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালা জানিয়েছিলেন, খুব শিগগিরই কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হবে। পরে এই মাসের শুরুতে জানানো হয় বৈঠক হবে ১৬ অক্টোবর।

দিনকয়েক আগে কপিল সিব্বল চিঠি লিখে বৈঠকের পক্ষে নিজের অবস্থান জানান। তিনি চিঠিতে লেখেন, ‘কংগ্রেসে এখন কোনো প্রেসিডেন্ট নেই। কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, আমরা জানি না। দলে কে সিদ্ধান্ত নেবে, তা-ও জানা নেই।’ এই বৈঠকের দাবি তুলে সরব হয়েছিলেন গুলাম নবী আজাদও। এর মধ্যে গতকাল কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির প্রতীক্ষিত বৈঠকটি হয়। সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা যায়, অশোক গেহলট এদিন বৈঠকে পরবর্তী সভাপতি হিসেবে রাহুল গান্ধীর নাম প্রস্তাব করেন। ওয়ার্কিং কমিটির বাকি সদস্যরাও সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। ফলে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচনে রাহুলের পাল্লাই ভারী বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের এই প্রস্তাবের পরে রাহুল জানান, তিনি কংগ্রেসের সভাপতি পদে পুনরায় বসার ব্যাপারে ভাবনা-চিন্তা করবেন।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন রাহুল। যার ফলে দলটি নেতৃত্ব নিয়ে রীতিমতো সংকটে পড়ে যায়। অনেক প্রবীণ নেতা সে সময় রাহুলকে ফের সভাপতিত্ব গ্রহণ করতে বললেও তাতে রাজি হননি তিনি। অবশেষে কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হন সোনিয়া গান্ধী। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা, টাইমস অব ইন্ডিয়া।



সাতদিনের সেরা