kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

নরওয়েতে তীর ছুড়ে পাঁচজনকে হত্যা

সন্দেহভাজন হামলাকারী ধর্মান্তরিত মুসলিম

স্ক্যান্ডিনেভিয়া প্রতিনিধি   

১৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নরওয়েতে তীর ছুড়ে পাঁচজনকে হত্যা

নরওয়ের কুংসবার্গ শহরের বিভিন্ন স্থানে তীর ছুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পুলিশের একজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

স্থানীয় সময় গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় দেশটির পুলিশ ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম। তিনি কট্টরপন্থী হয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার রাতে গ্রেপ্তারের পর রাতভর বেশ কয়েক ঘণ্টা পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে কেন তিনি এ হামলা চালিয়েছেন বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ কোনো তথ্য দেয়নি।

আঞ্চলিক পুলিশপ্রধান বলেন, ওই ব্যক্তি ২০২০ সাল থেকে পুলিশের পরিচিত। হতাহত ব্যক্তিদের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।

হামলা শুরু হয় স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে। এর ছয় মিনিট পর ওই ব্যক্তি পুলিশের মুখোমুখি হন। এ সময় তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে তীর ছোড়েন। এরপর পুলিশ গুলি ছোড়ার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান। ৩৫ মিনিট পর তিনি ধরা পড়েন। আঞ্চলিক পুলিশপ্রধান বলেন, পুলিশের সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি হওয়ার পর ওই ৩৫ মিনিটের মধ্যে সম্ভবত ওই ব্যক্তি বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করেন। ওই ব্যক্তি কয়েক বছর ধরে কুংসবার্গ শহরে বাস করছেন।

রাজধানী অসলো থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুংসবার্গ।

নরওয়ের পুলিশপ্রধান ওয়েভিন্দ আস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ডেনমার্কের অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তিকে একাই এ হামলা চালাতে দেখা গেছে এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। তবে আক্রমণকারী তীর-ধনুক ছাড়াও অন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেছেন কি না তা নিয়েও তদন্ত চলছে। হামলাকারী শহরের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। নরওয়ের পুলিশের অস্ত্র বহনের অনুমতি না থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে তাদের হালকা এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। এই ঘটনার পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এক জরুরি ঘোষণার মাধ্যমে নরওয়ের পুলিশদের অস্ত্র বহনের জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রাত ১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এটিকে সন্ত্রাসবাদী কাজ হিসেবে মনে করছে নরওয়ে সরকার।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কুংসবার্গ থেকে যে খবর এসেছে, তা নিঃসন্দেহে আতঙ্কজনক। আমি বুঝতে পারছি, অনেকেই ভীতসন্ত্রস্ত, কিন্তু সব কিছুই পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভীত হওয়ার মতো অবস্থা এখন আর বিরাজ করছে না। ’

নরওয়েতে ২০১১ সালের পর এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা আর ঘটেনি। এক দশক আগে কট্টর ডানপন্থী আন্দ্রেই ব্রেইভিক নামের এক উগ্র ডানপন্থীর হামলায় ৭৭ জন নিহত হয়েছিল, যাদের বেশির ভাগই ছিল অল্প বয়সী।



সাতদিনের সেরা