kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাহায্যের প্রতিশ্রুতি বিশ্বনেতাদের

আফগানিস্তানকে জঙ্গি ঘাঁটি হতে দেওয়া যাবে না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফগানিস্তানকে জঙ্গি ঘাঁটি হতে দেওয়া যাবে না

আফগানিস্তানকে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কাতারের রাজধানী দোহায় গত মঙ্গলবার ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তালেবানের বৈঠক হয়। একই দিন বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির জোট জি২০-এর নেতারা ভার্চুয়াল সম্মেলনে মিলিত হন। সম্মেলনে নেতারা আফগান জনগণকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

দোহার ওই বৈঠক এবং জি২০ নেতাদের সম্মেলনে তালেবানকে একই বার্তা দেওয়া হয়। বিশ্বের নেতারা সংকটের মধ্যে আফগানিস্তানের জনগণকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং দেশটি অবশ্যই জঙ্গিদের ঘাঁটিতে পরিণত হবে না সে বিষয়ে তালেবানকে সতর্ক করে দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি অংশ পাবে প্রতিবেশী দেশ, যারা আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে।

ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দার লিয়েন বলেন, এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বড় ধরনের মানবিক ও সামাজিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানোর জন্য। তিনি জোর দিয়ে আরো বলেন, এই তহবিল দেওয়া হচ্ছে আফগান জনগণের সরাসরি সহায়তার জন্য এবং তা অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকারকে দেওয়া হবে না। এই অর্থ পাঠানো হবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের কেউ এখনো পর্যন্ত তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।

এ সম্মেলনের আয়োজন করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাগি। তিনি বলেন, আফগান জনগণকে মানবিক সহায়তা দিতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে তাঁরা একমত। তিনি আরো বলেন, তালেবানের সঙ্গে জোটের দেশগুলোকে অবশ্যই যোগাযোগ রাখতে হবে। তার মানে এই নয় যে ওই গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকেও জি২০ স্বীকৃতি দিচ্ছে।

জার্মানির বিদায়ি চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল তাঁর দেশের পক্ষ থেকে ৬০ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের অর্থনীতি যদি ভেঙে পড়ে তাহলে তা কারো জন্য মঙ্গলজনক হবে না। তখন মানবিক সহায়তাও আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। এটা মাথায় রাখতে হবে যে চার কোটি মানুষ সেখানে খাদের কিনারে পৌঁছে গেছে।

জার্মান চ্যান্সেলর আরো বলেন, জাতিসংঘের সব সংস্থা যাতে ত্রাণ তৎপরতা চালাতে পারে, সেই সুযোগ তালেবানকে অবশ্যই দিতে হবে। সেই সঙ্গে মানবাধিকার ও নারীর প্রতি সম্মান দেখাতে হবে তাদের।

তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার আগে আফগানিস্তান প্রায় পুরোপুরি বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর ওই সাহায্য অবরুদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে দেশটিতে খাবারের দাম ক্রমাগত বাড়ছে, একই সঙ্গে বাড়ছে বেকারত্ব। ফলে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে দেশটি।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর কট্টরপন্থী এই ইসলামী সংগঠনটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি তারা মানবিক বিপর্যয় এড়াতে এবং দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।

মেয়েদের স্কুল খুলে দেওয়ার আহবান : আফগানিস্তানে মেয়েদের স্কুল খুলে দেওয়ার জন্য তালেবানের প্রতি আহবান জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষক ও ছাত্রীরা।

তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর দুই মাস ধরে আফগানিস্তানে মেয়েদের স্কুল বন্ধ রয়েছে। মাত্র তিনটি প্রদেশ বালখ, কুন্দুজ ও সার-আই-পুলে স্কুলগুলো পুনরায় খোলা হয়েছে।

মদিনা নামের এক ছাত্রী বলে, ‘রাজধানী কাবুলসহ অন্য প্রদেশগুলোতে স্কুল পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে আমি আশাবাদী। আমি চাই স্কুল পুনরায় খুলে দেওয়া হোক। শীতকাল আসন্ন। তখন আমরা পড়তে পারব না।’

স্কুলশিক্ষক আশোকুল্লা বলেন, মেয়েদের শিক্ষার অধিকার রয়েছে এবং স্কুল দ্রুত চালু করতে হবে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।



সাতদিনের সেরা