kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

‘ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক’ আলোচনা চীন-ন্যাটোর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক’ আলোচনা চীন-ন্যাটোর

আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে চীন ও নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)। বৈঠকটি ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক হয়েছে বলে জানিয়েছে চীন। তবে অন্যান্য ইস্যুতে মতানৈক্যের জেরে পরস্পরকে খোঁচা দিতে ছাড়েনি কোনো পক্ষই।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত সোমবার তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টোল্টেনবার্গ ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন। উভয় পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা হয়।

আফগানিস্তানের মাটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের উপস্থিতির বিরোধিতা সব সময় করে এসেছে চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে তাড়াহুড়া করে আফগানিস্তান ছেড়েছে, সেটারও সমালোচনা করেছে তারা। চীনের অভিযোগ, তড়িঘড়ি করে ও দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে আফগানিস্তান ত্যাগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনা-সমালোচনা সত্ত্বেও ‘বাস্তবমুখী সহযোগিতার অগ্রগতির স্বার্থে আলোচনার গভীরতা বাড়াতে’ একমত হয়েছে চীন ও ন্যাটো, গতকাল এমনটাই জানায় বেইজিং।

এর আগে গত সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ন্যাটো জানায়, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ন্যাটোপ্রধান বলেছেন, আফগানিস্তান যেন আর সন্ত্রাসবাদের আখড়া হয়ে উঠতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতেই ন্যাটো সেখানে গিয়েছিল। ২০০১ সালে ন্যাটো আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ওই ভূখণ্ড থেকে চীন অথবা মিত্র দেশগুলোতে যে কোনো হামলা হয়নি, সেটা স্মরণ করিয়ে দিতে ভোলেননি স্টোল্টেনবার্গ।

চীনা কূটনীতিক ওয়াং ই অবশ্য বৈঠকে বলেছেন, বেইজিং তালেবানকে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি বলে মনে করে এবং আশা করে, শান্তি, সমঝোতা ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই গোষ্ঠী। চীনের সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুর অধ্যুষিত শিনচিয়াং নিয়ে বেইজিংয়ের উদ্বেগ জানাতেও ভোলেননি ওয়াং ই। উইঘুররা যেন স্বাধীনতার দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কোনোভাবেই আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে তালেবানকে অঙ্গীকার রক্ষার আহবান জানান তিনি। এসবের পাশাপাশি আফগানিস্তানের জন্য তিন কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তা ও ৩০ লাখ কভিড ভ্যাকসিন সরবরাহের প্রস্তাবও দেন চীনের শীর্ষ কূটনীতিক।

বৈঠকে ওয়াং ন্যাটোর সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্কের অঙ্গীকার করার পাশাপাশি জোটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কোনো নতুন সামরিক জোটের প্রয়োজন নেই। বিশ্বশক্তিগুলোর দ্বন্দ্বে এই অঞ্চলকে শামিল করাও উচিত হবে না, এমনকি ছোট পরিসরেও উচিত হবে না, যা স্নায়ুযুদ্ধ উসকে দিতে পারে।’

ন্যাটোপ্রধান বলেন, এই জোট চীনকে শত্রু হিসেবে দেখে না। কিন্তু চীন যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার রক্ষা করে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়, এমন মন্তব্যও করেন স্টোল্টেনবার্গ। পাশাপাশি বরাবরের মতোই চীনের ‘দমনমূলক নীতিমালা, পরমাণু অস্ত্রের পরিসর বৃদ্ধি এবং সামরিক আধুনিকায়নের বিষয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে’ মন্তব্য করে এসব ব্যাপারে উদ্বেগ জানান তিনি।

মার্কিন বাহিনীর আফগানিস্তান ত্যাগ, কাবুলে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও সরকার গঠন ইস্যুতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিশ্বনেতারা। নতুন সরকারকে চটজলদি স্বীকৃতি দেওয়ার পরিবর্তে তাঁরা ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ নীতিতে চলছেন। নিজেদের বদলে নেওয়ার অঙ্গীকার তারা রক্ষা করতে পারে কি না, সেদিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ব। অবশ্য নারী অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি তারা দেখাতে পারছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে নারীর প্রবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছে তারা। এর মধ্যে কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে তালেবান নিয়োজিত নতুন চ্যান্সেলর জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইসলামী পরিবেশ’ প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত সেখানে নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।



সাতদিনের সেরা