kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আফগান ইস্যুতে বসছেন জি-টোয়েন্টি নেতারা

কাবুলে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরুর আহবান তালেবানের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফগানিস্তান ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন জি-টোয়েন্টি জোটের নেতারা। আগামীকাল মঙ্গলবার এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। জোটের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ইতালি জানিয়েছে, এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আফগানিস্তানে চার অপহরণকারীকে গুলি করে হত্যা করেছে তালেবান। এ ছাড়া হত্যার পর পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরের একটি চত্বরে ক্রেনের সাহায্যে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কিংবা অঙ্গচ্ছেদের বিধান পুনরায় চালু করা হবে—তালেবানের এমন ঘোষণার দুই দিন পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার ঘটনাটি ঘটল। খবর বিবিসির।

তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই চারজন এক ব্যবসায়ী ও তাঁর ছেলেকে অপহরণ করেছিল। অপহরণের পর তারা ব্যবসায়ী ও তাঁর ছেলেকে শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে থাকা চেক পয়েন্টে অপহরণকারীরা ধরা পড়ে যায়। পরে তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে গোলাগুলিতে মৃত্যু হয় তাদের। অপহৃত দুজনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

ওয়াজির আহমদ সিদ্দিকী নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, চারটি লাশই হেরাত শহরের মূল চত্বরে আনা হয়। এর মধ্যে একজনের লাশ ক্রেনে ঝুলিয়ে রাখা হয়। বাকি তিনজনের মরদেহ শহরের অন্যান্য এলাকায় ঝুলিয়ে রাখার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

হেরাতের ডেপুটি গভর্নর মাওলাই শের জানান, এরপর যেন অপহরণের ঘটনা না ঘটে, সেটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। তবে যে চারজন নিহত হয়েছে, তারা আদৌ অপহরণকারী ছিলেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হেরাতের বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজির বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তিনি শহরের মোস্তোফিয়াত স্কয়ারের কাছে খাবার কিনতে গিয়েছিলেন। তখন জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাইকে একটি ঘোষণা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘ওই ঘোষণা শুনে আমি কয়েক পা এগিয়ে দেখি তারা পিকআপে করে একজনের লাশ নিয়ে এসেছে। কিছুক্ষণ পর সেই লাশ ক্রেনে করে ঝুলিয়ে রাখা হয়।’

ক্রেনে লাশ ঝুলিয়ে ওপরে তোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রক্তাক্ত ওই লাশের বুকে আটকানো ছিল একটা বার্তা, যাতে লেখা আছে, ‘এটাই অপহরণের শাস্তি’।

এদিকে কাবুলে ফ্লাইট চালু করার জন্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে তালেবান। কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রকম টেকনিক্যাল সমস্যা সমাধান করা হয়েছে দাবি করে এ আহবান জানায় তারা।

মার্কিন সেনার পাশাপাশি আফগান-বিদেশি মিলিয়ে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষকে তাড়াহুড়া করে কাবুল থেকে সরিয়ে নিতে গিয়ে বিমানবন্দরটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিমানবন্দর পরিচালনা করার জনবলও তাদের হাতে ছিল না। ফলে গত ৩০ আগস্ট আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কার্যত অচল হয়ে যায় কাবুল বিমানবন্দর। সূত্র : বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।



সাতদিনের সেরা