kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দোষারোপে ব্যস্ত ভারত-পাকিস্তান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দোষারোপে ব্যস্ত ভারত-পাকিস্তান

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বছরজুড়ে পাল্টাপাল্টি দোষারোপের যে ‘সংস্কৃতি’ চলে, তা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও অব্যাহত ছিল।

গত শুক্রবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাঁর ভাষণে অভিযোগ করেন, ভারতে বসবাসরত মুসলমানদের ওপর মোদি সরকার সন্ত্রাসী কায়দায় নির্যাতন চালাচ্ছে। ভারতে ‘ইসলামোফোবিয়া’ সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ইমরান খান। অন্যদিকে তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সখ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে নয়াদিল্লি।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন মোদি ও ইমরান। এর মধ্যে ইমরান খান ভিডিও বার্তার মাধ্যমে গত শুক্রবার নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোদি।

ভারতে মুসলিম নিধন চলছে উল্লেখ করে ইমরান খান বলেন, ‘ইসলামোফোবিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ যে রূপ, সেটাই এখন ভারত শাসন করছে। আরএসএস ও বিজেপি প্রবর্তিত ঘৃণায় ভরা হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের মাধ্যমে ভারতের ২০ কোটি মুসলমানের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।’ ব্যাবসায়িক স্বার্থের কারণে ভারত মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব অভিযোগ থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ইমরান খান।

অধিবেশন চলাকালে ইমরান খানের এসব অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতীয় মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি স্নেহা দুবে। তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকারই ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছিল। তাদের বর্তমান কর্মকাণ্ডের কারণে আশপাশের দেশের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনারা জেনোসাইড চালিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন দুবে। তিনি বলেন, ‘ভারত এমন একটি গণতান্ত্রিক দেশ, যেখানে যেকোনো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সদস্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে বসার সুযোগ পান।’

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাইডেনের সঙ্গে ইমরান খানের বৈঠকের খবর পাওয়া যায়নি। আগের দিন হোয়াইট হাউসে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোদি। সেখানে তিনি তালেবান ও ইসলামাবাদের সখ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গতকাল রাতে সাধারণ অধিবেশনে মোদির ভাষণ দেওয়ার কথা।

বাইডেনের সঙ্গে মোদির বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আফগানিস্তান ইস্যু ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তান কী করছে, সে বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।’

সাধারণ অধিবেশনের বক্তব্যে আফগানিস্তান ইস্যুতে ইমরান খান বলেন, গত মাসে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তালেবান মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ‘মানবাধিকারের পথে হাঁটার জন্য বিশ্বসম্প্রদায় যদি তালেবানকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেয়, তাহলে সব পক্ষই লাভবান হবে। আফগানিস্তানের সাধারণ জনগণের স্বার্থে আমরা অবশ্যই বর্তমান সরকারকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে ভূমিকা রাখব।’ সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা