kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন

ভাষণ দিচ্ছেন না মিয়ানমারের দূত

আফগানিস্তানের পক্ষে বলবেন ইসাকজাই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাষণ দিচ্ছেন না মিয়ানমারের দূত

আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের পরিবর্তিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কারা এ দুটি দেশের হয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে ভাষণ দেবেন বা দেবেন না, তা নিয়ে জল্পনার অবসান হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, আফগানিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন দেশটির সাবেক সরকারের নিযুক্ত দূত গুলাম এম ইসাকজাই। তবে সংস্থায় মিয়ানমারের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য হওয়া সত্ত্বেও অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন না কিয়াও মোয়ে তুন। জাতিসংঘ অধিবেশনে আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে জানাতে গিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিসংক্রান্ত ইস্যু দেখভাল করে সংস্থাটির ৯ সদস্যের ক্রেডেনশিয়াল কমিটি। এতে চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রও আছে। সাধারণত প্রতিবছর অক্টোবর বা নভেম্বরে এই কমিটি বৈঠকে বসে। ক্রেডেনশিয়াল কমিটি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত মোয়ে তুন ও ইসাকজাই জাতিসংঘে মিয়ানমার ও আফগানিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে বহাল থাকছেন। সে হিসেবে অধিবেশনে ইসাকজাইয়ের ভাষণ দেওয়ার কথা। এ ছাড়া সপ্তাহব্যাপী অধিবেশনের শেষ দিন আগামীকাল সোমবার। যাঁরা ভাষণ দেবেন তাঁদের তালিকায় ইসাকজাইয়ের নাম আছে বলেও জানায় রয়টার্স।

অধিবেশনের শেষ দিনই মিয়ানমারের হয়ে কিয়াও মোয়ে তুন ভাষণ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল; কিন্তু জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফানে দুজারিক গত শুক্রবার বলেন, ‘এই মুহূর্তে বক্তাদের তালিকায় মিয়ানমার নেই।’ মোয়ে তুন না থাকলেও সোমবারের সূচিতে ইসাকজাইয়ের নাম আছে বলে নিশ্চিত করেছেন দুজারিক।

মোয়ে তুনকে নিয়োগ দিয়েছিল অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার। ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে নেওয়া সামরিক বাহিনী পরে আরেকজনকে জাতিসংঘে মিয়ানমারের দূত হিসেবে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু কূটনীতিকরা জানান, মিয়ানমারের জাতিসংঘ আসন নিয়ে চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একধরনের সমঝোতা হয়েছে। চীন ও রাশিয়া জানিয়েছে, সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে মোয়ে তুন যদি বক্তৃতা না দেন, তাহলে তাঁর মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে দেশ দুটি আপত্তি জানাবে না।

মোয়ে তুন নিজেও জানিয়েছেন, ‘আমি বক্তাদের তালিকা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছি; সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে আমি বক্তব্য দেব না।’

গত ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশের নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করে ক্ষমতা নেওয়ার পর জাতিসংঘে মিয়ানমারের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের দাবি নিয়ে জান্তা ও ক্ষমতাচ্যুত সরকার পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছিল। আফগানিস্তানে তালেবান এ মাসে নতুন সরকার গঠনের পর সে দেশের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় জাতিসংঘ অধিবেশনে এ দুটি দেশের হয়ে কারা বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল আছে। সূত্র : রয়টার্স, আলজাজিরা।



সাতদিনের সেরা