kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাতিসংঘে আফগান ইস্যু

জনপ্রতিনিধিত্বের সরকার চায় নিরাপত্তা পরিষদ

‘আরো সংবেদনশীল হতে হবে তালেবানকে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জনপ্রতিনিধিত্বের সরকার চায় নিরাপত্তা পরিষদ

আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ঐকমত্য জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য রাষ্ট্র। এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত বুধবার এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপির

এদিকে স্থিতিশীলতা চাইলেও তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া না দেওয়া নিয়ে দোটানার মধ্যে পড়ে গেছেন বিশ্বনেতারা। কারণ তালেবানের মতাদর্শকে তাঁরা ইতিবাচকভাবে দেখতে পারছেন না।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখল করে নেয় তালেবান। এর মধ্যে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারের পতন ঘটে সেখানে। এর পর থেকে অনেক দেশ বিভিন্ন উপায়ে তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। কিন্তু শুরু থেকেই এসব দেশ বলে আসছে যে তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা মানে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া নয়।

 

এবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে স্বাভাবিকভাবেই তালেবান ইস্যু নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়। অধিবেশনে যোগ দেওয়ার অনুমতি চেয়ে কয়েক দিন আগে গুতেরেসের কাছে চিঠি পাঠায় তালেবান। তালেবান চিঠিতে জানায়, তারা আফগানিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে কিছু বলতে চায়। কিন্তু জাতিসংঘে নিযুক্ত আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রতিনিধি নিজেকে তাঁর দেশের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করেন।

সাধারণ অধিবেশনের শুরুতে তালেবানের আবেদনের বিরোধিতা করে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস বলেন, এখানে ‘তালেবান প্রদর্শনী’ করে কোনো লাভ হবে না। অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেছেন, তালেবানকে আরো সংবেদনশীল হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তালেবান ইস্যুতে জাতিসংঘের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেছেন। কিন্তু বৈঠকের পরে কেউই গণমাধ্যমে কথা বলেননি। এই বৈঠকের ব্যাপারে গত বুধবার জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন. ‘সবাই এমন একটা স্থিতিশীল আফগানিস্তান চায়, যেখানে নির্বিঘ্নে এবং বৈষম্যহীনভাবে ত্রাণ বিতরণ করা যাবে। স্থায়ী পাঁচ সদস্য এমন আফগানিস্তান চায়, যেখানে নারীদের সম্মান থাকবে এবং মেয়েরা স্কুলে যেতে পারবে; যে দেশ সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হবে না। সবাই এমন আফগানিস্তান চায়, যেখানে জনতার প্রতিটি অংশের প্রতিনিধি থাকবে।’

স্থায়ী পাঁচ সদস্য রাষ্ট্রের বৈঠক শুরুর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যই চায় যে আফগানিস্তানে সমন্বিত সরকার গঠিত হোক।’

আফগানিস্তানে তালেবানের বিজয়কে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় হিসেবে দেখে চীন ও রাশিয়া। চীন এরই মধ্যে আভাস দিয়েছে যে তারা আফগানিস্তানের আটকে দেওয়া কিছু অর্থ ফেরত দেবে। কিন্তু তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে বেইজিং এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা দেয়নি। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।



সাতদিনের সেরা