kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়লেন অমরিন্দর

বিপাকে কংগ্রেস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়লেন অমরিন্দর

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অমরিন্দর সিং। কংগ্রেসের প্রবীণ এই নেতা গতকাল শনিবার সকালেই দলের নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে জানিয়েছিলেন, দলে বেশ কয়েকবার অপমানিত হয়েছেন। এসব সহ্য করে আর থাকবেন না তিনি। বিকেলেই রাজ্যের রাজধানী চণ্ডীগরের রাজভবনে গিয়ে রাজ্য গভর্নরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পাঞ্জাব রাজ্যে আগামী বছরেই বিধানসভার নির্বাচন। এর আগে দলীয় কোন্দলের কারণে অমরিন্দরের পদত্যাগে রাজ্যে বড় ধরনের বিপাকে পড়ল কংগ্রেস। পদত্যাগের পর ক্ষুব্ধ অমরিন্দর বলেন, ‘ওঁরা যাঁকে বিশ্বাস করেন, তাঁকেই এই পদে বসাতে পারেন।’ এ নিয়ে তিনি আর মাথা ঘামাবেন না। তবে সময় এলে নিজের জন্য বিকল্প কিছু ভেবে দেখবেন।

গতকাল অমরিন্দরের ইস্তফার পরেই বৈঠকে বসেছেন পাঞ্জাবের বিধায়করা। সূত্রের খবর মতে, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে, তা নিয়েই চলছে আলোচনা। আপাতত তিনজনের নাম উঠে এসেছে। সুনীল জাখার, প্রতাপ সিং বাজওয়া ও বিয়ান্ত সিংয়ের নাতি রভনীত সিং বিট্টু। চূড়ান্ত নামে সিলমোহর দেবে দলের হাইকমান্ড।

 

কয়েক মাস ধরেই পাঞ্জাব কংগ্রেস এবং সরকারের ফাটল ক্রমেই প্রকাশ্যে এসেছে। ঝামেলার সূত্রপাত অমরিন্দর ও নভজ্যোত সিং সিধুর মধ্যে। সিধু প্রকাশ্যে অমরিন্দরের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। এরপর সেই সিধুকেই পাঞ্জাব কংগ্রেসের প্রধান করা হয়। যদিও জানানো হয়, ভোট বৈতরণীর হাল থাকবে অমরিন্দরের কাঁধেই। তিনিই হবেন মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী। সেই থেকে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে শুরু করে। পাঞ্জাবের একের পর এক নেতা, বিধায়ক আঙুল তোলেন অমরিন্দরের দিকে। দলের তরফে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরতেও বলা হয়।

গতকাল সকালেই অমরিন্দর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সোনিয়া গান্ধীকে বলেছি, এ ধরনের অপমান অনেক হয়েছে। এ নিয়ে তৃতীয়বার আমায় অপমান করা হলো। এ ধরনের অপমান সয়ে আমি দলে থাকতে পারব না।’ এর পরই অমরিন্দরের ছেলে রনিন্দর সিং টুইটারে বাবার ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন। বলেন, তিনিও বাবার সঙ্গে রাজভবনে গিয়েছিলেন তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিতে।

তবে রাজনীতিক মহল বলছে, পাঞ্জাব কংগ্রেসের বিরোধ এতে মিটবে না, বরং বাড়বে। কারণ অমরিন্দরসহ বিক্ষুব্ধরা চুপ করে বসে থাকার পাত্র নন। দিন কয়েক আগে নিজেদের অনুগামীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন অমরিন্দর। সেখানে রাজ্যের চার মন্ত্রীসহ যোগ দেন ১৫ জন বিধায়ক।

পাঞ্জাব বিধানসভার সদস্যসংখ্যা ১১৭। কংগ্রেসের বিধায়ক ৮০ জন। আগামী বছরই রাজ্যে ভোট। যতই অমরিন্দরকে সরাতে চেয়ে ৫০ জন বিধায়ক সোনিয়াকে চিঠি লিখুন, দুঁদে এই কংগ্রেস নেতার অনুগামীর সংখ্যাও কম নয়। এতেই চাপে পড়তে পারে কংগ্রেস। আর বাড়তি সুবিধা পেতে পারে কেজরিওয়ালের আপ। সূত্র : পিটিআই।



সাতদিনের সেরা