kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আফগানিস্তানে স্কুল খুলেছে, যাবে শুধু ছেলেরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফগানিস্তানে স্কুল খুলেছে, যাবে শুধু ছেলেরা

কাবুলের ইসতিকাল স্কুলে গতকাল মাধ্যমিকের ছেলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ছবি : এএফপি

আফগানিস্তানে মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে গতকাল শনিবার থেকে ফের পাঠদান শুরু হয়েছে। তবে বাদ রাখা হয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের। আগের দিন শুধু পুরুষ শিক্ষক ও ছাত্রদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে একটি বিবৃতি দেয় তালেবান। এদিকে আফগানিস্তানের নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দিতে চায় তালেবান। সে ক্ষেত্রে এই মন্ত্রণালয়কে নৈতিকতাবিষয়ক মন্ত্রণলায় করা হতে পারে। তালেবান কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এসব খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারকে হটিয়ে গত মাসে ক্ষমতায় আসে তালেবান। তারা প্রতিশ্রুতি দেয়, তালেবানের এবারের শাসন প্রথম শাসনামলের (১৯৯৬-২০০১) মতো কট্টর কিংবা কঠোর হবে না। ওই সময় প্রায় কোনো মেয়েই স্কুলে যাওয়ার অনুমতি পেত না। কিন্তু মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে ফের পাঠদানের ব্যাপারে তালেবান যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ‘সব পুরুষ শিক্ষক ও ছাত্রদের শনিবার (গতকাল) থেকে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে বলা হলো।’ নারী শিক্ষক কিংবা ছাত্রীদের বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি।

আফগানিস্তানের মাধ্যমিক স্কুলে সাধারণত ১৩ থেকে ১৮ বছরের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছেলে-মেয়েদের শ্রেণিকক্ষ আলাদা হয়ে থাকে। করোনা মহামারির কারণে কয়েক দফা স্কুল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

২০০১ সালে তালেবানের পতনের পর আফগানিস্তানে নারীশিক্ষার উল্লেখযোগ্য প্রসার ঘটে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ার পাশাপাশি নারীশিক্ষার হার দ্বিগুণ বেড়ে ৩০ শতাংশে দাঁড়ায়। যদিও নারীশিক্ষার প্রসার শহরেই বেশি ঘটেছে।

এদিকে আফগানিস্তানের স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মেয়েদের, বিশেষ করে ১৫ থেকে ১৮ বছরের মেয়েদের যত দ্রুত সম্ভব স্কুলে ফেরা উচিত। এ জন্য নারী শিক্ষকদের অবিলম্বে স্কুলে নিয়ে আসতে হবে।’

আফগানিস্তানে এরই মধ্যে প্রাথমিক স্কুলে পাঠদান শুরু হয়েছে। সেখানে ছেলে ও মেয়েদের পাঠদান চলছে পৃথক শ্রেণিকক্ষে। অনেক নারী শিক্ষকও প্রাথমিকে পাঠদান শুরু করেছেন। শর্ত সাপেক্ষে নারীদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অনুমতিও দিয়েছে তালেবান।

আফগানিস্তানে নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ মন্ত্রণালয়কে বানানো হতে পারে নৈতিকতাবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, তালেবানের প্রথম শাসনামলে একই নামে একটি মন্ত্রণালয় ছিল। এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নারীবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নামফলক মুছে ফেলা হয়েছে। সেখানে লাগানো হয়েছে নৈতিকতাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফলক।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছে, তিনি তালেবানের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন। চিঠিতে তালেবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা জাতিসংঘের কর্মীদের সুরক্ষা দেবে। এ ছাড়া নারীর অধিকার নিয়েও নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা স্পুিনকের সঙ্গে আলাপকালে গুতেরেস বলেন, ‘ত্রাণ সহায়তা নিয়েও তালেবানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে।’

গতকাল নানগারহর প্রদেশের জালালাবাদ শহরে পৃথক বোমা হামলায় দুজন নিহত হয়েছে। তালেবানের গাড়ি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান ছাড়ার পর দেশটিতে এটাই প্রথম হামলা। কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে নানগারহর প্রদেশটি আইএসের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

এদিকে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের কয়েক দিন আগে কাবুলে মার্কিন ড্রোন হামলায় ১০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তদন্তে উঠে এসেছে, ২৯ আগস্টের ওই হামলায় ত্রাণ সংস্থার এক কর্মী ও তাঁর পরিবারের ৯ সদস্য নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন শিশু। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।



সাতদিনের সেরা