kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সামরিক জোট

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সমালোচনায় মিত্ররা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সমালোচনায় মিত্ররা

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে নতুন সামরিক জোট করে ঘরে-বাইরে সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নতুন এই জোটের কারণে চীনের সঙ্গে যুদ্ধ বাধার আশঙ্কা বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ‘পিঠে ছুরি মারার’ অভিযোগও তুলেছে ইউরোপের অনেক দেশ। তিন দেশের এই জোটকে ‘স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা’ বলে অভিহিত করেছে চীন।

গত বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে ‘অকাস’ শীর্ষক নতুন সামরিক জোটের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। মূলত দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য মোকাবেলাই এ জোটের লক্ষ্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জোট চীনের আধিপত্য কতটা খর্ব করতে পারবে, সেটা নিশ্চিত নয়। তবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের যে ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ রয়েছে, অকাসের কারণে তা অনেকটাই পাল্টে যাবে। এরই মধ্যে নতুন এই জোট বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দাবি করেছেন, চীনকে মাথায় রেখে এই জোট গঠন করা হয়নি। পার্লামেন্টে জনসনের কাছে তাঁর পূর্বসূরি টেরেসা মে জানতে চান, এই চুক্তি যুক্তরাজ্যকে চীনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে কি না? মের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে জনসন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার প্রতি যুক্তরাজ্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

নতুন সামরিক জোটের কারণে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছে। কারণ অকাসের কারণে ফ্রান্সের সঙ্গে একটি বড় অঙ্কের চুক্তি বাতিল করতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ফ্রান্স এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছে যে দুই দেশের মধ্যকার একটি যৌথ উৎসব তারা বাতিল করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেয়ার্ড আরাউদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভালো করেই জানত যে সাবমেরিন কেনার চুক্তিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ওই চুক্তির সঙ্গে ফ্রান্সের জাতীয় স্বার্থ জড়িত রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা আমলে নেয়নি।’

এদিকে অকাসকে স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা হিসেবে মন্তব্য করেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, পারমাণবিক সাবমেরিনের লড়াইয়ে চীন জবাব দিলে অস্ট্রেলিয়ার সেনারাই সবার আগে প্রাণ হারাবে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং গতকাল বলেছেন, চীনের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘চীনের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ভবিষ্যৎ কেমন হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধুই আমাদের।’

চীনের এই প্রতিক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার ডুটোন বলেন, ‘আমরা এর আগেও চীনের এ ধরনের বক্তব্য শুনেছি।’ সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা