kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নতুন সামরিক জোট গড়ল যুক্তরাষ্ট্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন সামরিক জোট গড়ল যুক্তরাষ্ট্র

চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য মোকাবেলায় অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সামরিক জোটের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই জোটের আওতায় অস্ট্রেলিয়াকে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন মোতায়েনের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করবে বাকি দুই দেশ। এ ছাড়া মার্কিন ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারও করতে পারবে অস্ট্রেলিয়া।

নতুন এই জোটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অকাস’। গত বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে এই জোটের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। অবশ্য কেউই এই জোটের প্রতিপক্ষ হিসেবে চীনের নাম উল্লেখ করেননি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনকে লক্ষ্য করেই যে এই জোট গড়া হয়েছে, তা একেবারে পরিষ্কার।

চীন এরই মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে নতুন এই জোট ‘বেপরোয়া হুমকি’ হয়ে দাঁড়াবে।

সরাসরি নতুন জোটের সমালোচনা না করে নিউজিল্যান্ড বলেছে, অস্ট্রেলিয়ার নতুন সাবমেরিন যেন তাদের জলসীমার আশপাশে না থাকে।

নতুন সামরিক চুক্তির ঘোষণা ফ্রান্সকেও ক্ষুব্ধ করেছে। কারণ এই চুক্তির ফলে এরই মধ্যে ফ্রান্সের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনার একটা চুক্তি অস্ট্রেলিয়াকে বাতিল করতে হয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-ইভ লু দিরিয়া বলেছেন, ‘আমি আজ খুবই ক্ষুব্ধ। যে কাজটি করা হলো, সেটা মিত্র হয়ে মিত্রের সঙ্গে কেউ করতে পারে না।’ নতুন সামরিক চুক্তিকে পিঠে ছুরি মারার সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি।

ফ্রান্সের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনার চুক্তিটি অস্ট্রেলিয়া করেছিল ২০১৬ সালে। সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের ওই চুক্তি অনুযায়ী ফ্রান্সের কাছ থেকে ১২টি সাবমেরিন পেত অস্ট্রেলিয়া।

এই জোটের অধীনে তিনটি দেশ একে অন্যের সামরিক প্রযুক্তি ভাগাভাগি করতে পারবে। গত বুধবার জো বাইডেন বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ আমাদের সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।’

তিন দেশের নেতারা যেসব প্রযুক্তি ভাগাভাগির কথা বলছেন, তার মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোয়ান্টাম ও সাইবার প্রযুক্তিও আছে। তিন দেশের নেতা যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘অকাসের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে আমরা অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীকে পারমাণবিক সাবমেরিন অর্জনের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করব। তাদের এই সক্ষমতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বাড়াবে। আমাদের যৌথ মূল্যবোধ ও স্বার্থের সমর্থনে এগুলো (সাবমেরিন) মোতায়েন করা হবে।’

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে বরিস জনসন বলেছেন, ‘যে তিন দেশ মিলে এই জোট করা হয়েছে, তারা সবাই স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই জোট আমাদের নিজেদের স্বার্থ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।’

অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখতে সম্প্রতি তাদের ওপর নানা ধরনের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চীন। কূটনৈতিক সংলাপও বন্ধ করে দেয় তারা। সর্বশেষ গত সোমবার ‘উন্মুক্ত আলোচনার’ জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে আমন্ত্রণ জানান মরিসন। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা