kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

মধ্যপ্রাচ্যে পরের যুদ্ধটি পানি নিয়ে!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এবারের গ্রীষ্মে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুয়েত, ওমান, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে। দাবানল ও খরার মতো দুর্যোগও বেড়ে গেছে এসব দেশে।

বিজ্ঞানীরা মোটামুটি একমত যে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় আঘাতটা মধ্যপ্রাচ্যকেই সহ্য করতে হবে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি নদীর প্রবাহ গত ৫০ বছরে অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিশেষ করে ইরানের উরমিয়া হ্রদের আয়তন গত ৩০ বছরে পাঁচ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার থেকে কমে আড়াই হাজারে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং হ্রদের গতিপথ ব্যাহত করে স্থাপনা নির্মাণ করার কারণেই এমনটা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশবিজ্ঞানীরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে মাথাপিছু পানির পরিমাণ প্রতিবছরই কমছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এরপর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বাধলে সেটি পানি নিয়েই বাধবে, তেল নিয়ে নয়।

ইলমাউস্কবল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পরিচালক ও পরিবেশবিজ্ঞানী আম্রো সেলিম বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ আছে, যারা একটি পানির উৎস ভাগাভাগি করে আসছে। অর্থাৎ এসব পানির উৎস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে এ ধরনের পানির উৎস নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে স্বাভাবিকভাবেই হানাহানি ঘটতে পারে।

নদীর গতিপথ ব্যাহত করে বাঁধ নির্মাণের সবচেয়ে বড় উদাহরণ তৈরি করে ইথিওপিয়া। প্রায় এক দশক আগে নীল নদের তীরে ‘গ্র্যান্ড রিনেইনস’ বাঁধ নির্মাণ করে তারা। এই বাঁধ নির্মাণের ফলে মিসরে পানির প্রবাহ ২৫ শতাংশ কমে যায়। এ নিয়ে মিসর এতটাই ক্ষিপ্ত হন যে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘এই বাঁধ জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

জাতিসংঘের পূর্বাভাস বলছে, পানি সংকটের প্রভাব এতটাই মারাত্মক হতে পারে যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জিডিপি ২০৫০ সাল নাগাদ ৬ থেকে ১৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।



সাতদিনের সেরা