kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

ভবিষ্যৎ নির্মাণে অতীতের বীজ বুনছে তিউনিশিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জলবায়ু সংকট মোকাবেলা এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে কৃষি উত্পাদন বাড়ানোর জন্য আদি দেশি বীজেই ভরসা রাখছে তিউনিশিয়া।

উত্তর আফ্রিকার এই দেশের কৃষকরা বলছেন, তাঁদের আদি দেশি বীজের সংগ্রহশালার মধ্যেই তাঁরা সংকটের সমাধান পেয়েছেন। টেকসই কৃষি উত্পাদনের জন্য সরকারও এ পথেই হাঁটছে।

রাজধানী তিউনিশের ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের এলাকা জাদাইদার এক কৃষক মোহাম্মেদ লাসাদ বেন সালেহ জানান, হাইব্রিড জাতের চাষাবাদ থেকে সরে এসে আট বছর আগে তিনি গমের দেশি জাত আল-মেসেকনি চাষ শুরু করেন। উত্পাদন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ফলাফল ভালো।’

তিউনিশিয়ার কৃষকরা জানান, জলবায়ু সংকটের ফলে তৈরি হওয়া অতিবৃষ্টি, উষ্ণায়ন, খরা ও আর্দ্রতার তারতম্যের মতো সমস্যার মুখে দেশি জাতগুলো টেকসই ও রোগ প্রতিরোধক্ষম। আশির দশকে প্রাদুর্ভাব ঘটা গমের ব্লাইট রোগের বিরুদ্ধে হাইব্রিড জাতের তুলনায় দেশীয় জাতগুলোর প্রতিরোধক্ষমতা বেশি ছিল। সে কারণে কৃষকরা পূর্বপুরুষের চাষাবাদ করা জাত ব্যবহারের দিকে মনোযোগী হচ্ছেন।

বেন সালেহ আরো জানান, সম্প্রতি কয়েক বছরে তিউনিশিয়ায় জাতীয়ভাবে গমের গড় উত্পাদন ছিল হেক্টরপ্রতি ১.৪ থেকে দুই টন। অথচ দেশি জাতে উত্পাদিত গমে তাঁর জমিতে হেক্টরপ্রতি ফলন হয়েছে পাঁচ টনের মতো। এ ছাড়া গবেষণাগারে উদ্ভাবিত জাত প্রতিবছরই কিনতে হয় কৃষককে। এ জন্য তিউনিশিয়া সরকার প্রতিবছর চাহিদার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বীজ আমদানি করে।

তিউনিশিয়ার জাতীয় বীজ ভাণ্ডারের (জিন ব্যাংক) প্রধান এম’বারেক বেন নাসিউর বলেন, ‘আমাদের দেশি জাতগুলো উচ্চ তাপমাত্রা ও খরার মধ্যে টিকে থাকতে অভ্যস্ত। সে কারণে এসব বীজ জলবায়ু পরিবর্তন ও উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারে। এসব আমাদের মাটির বংশধর।’ বীজ ভাণ্ডারের একজন কর্মকর্তা জানান, তাঁরা ফসলের দেশীয় জাতের সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করছেন। তাঁরা ২০০৮ সাল থেকে বীজ সংগ্রহের কাজ করছেন।

জাতিসংঘের আন্ত সরকার প্যানেল গত মাসে জানিয়েছিল, আশঙ্কার চেয়ে দ্রুতগতিতে জলবায়ু পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। এ অবস্থায় তিউনিশিয়াসহ সারা বিশ্বই খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা