kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভারতে মহামারি শেষ পর্যায়ে : ডাব্লিউএইচও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারতে মহামারি শেষ পর্যায়ে : ডাব্লিউএইচও

ভারতে করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কার মধ্যেই আশার কথা শোনালেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন।

যে পর্যায়ে পৌঁছে একটি জাতি ভাইরাসকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচতে শিখে যায়, ভাইরাসকে সঙ্গী করেই জীবন কাটায়, সেই পর্যায়কে ‘এন্ডেমিক’ বলা হয়। ভারত মহামারির এই পর্যায়ের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে করেন সৌম্যা। গত মঙ্গলবার তিনি এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘আমরা এন্ডেমিসিটির এমন পর্যায়ে যাচ্ছি, যেখানে সংক্রমণের কম বা মাঝারি প্রভাব দেখা যাবে।’ ২০২২ সালের মধ্যে অতিমারিপূর্ব জীবনে দেশবাসী ফিরে যেতে পারবে বলেও আশা করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে তৃতীয় ঢেউ নিয়ে শিশুদের ব্যাপারে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।

এমন আশাবাদের বিপরীতে ফের দেশটিতে বেড়েছে দৈনিক সংক্রমণ। গত সোম ও মঙ্গলবার ২৫ হাজারের ঘরে থাকলেও গতকাল বুধবার তা ফের ৩৭ হাজার ছাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্ত হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৯৩ জন।

এদিকে গত মঙ্গলবার কয়েকটি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাত্কারে যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক রোগ বিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচিও করোনার লাগাম টানার ব্যাপারে আশাবাদী কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যে আট বা ৯ কোটি মানুষ এখনো টিকার বাইরে রয়েছে, যারা টিকা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না বা সুযোগ পাচ্ছে না, তাদের বড় অংশকে যদি আমরা টিকা দিয়ে ফেলতে পারি, আমার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত আমরা আশার আলো দেখতে পাব।’ হেমন্তের শেষে বা শীতের শুরুতেই সেটা হয়ে যেতে পারে বলে তাঁর আশা।

সিডনিতে শনাক্ত বাড়ছেই : অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম শহর সিডনিতে দুই মাস ধরে লকডাউন চললেও দৈনিক রোগী শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে। সিডনি যে রাজ্যের রাজধানী সেই নিউ সাউথ ওয়েলসে গতকাল বুধবার ৯১৯ জন নতুন রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চীনা টিকার অনুমোদন দিল সৌদি আরব : সৌদি আরব করোনার আরো দুটি টিকার অনুমোদন দিয়েছে। গত মঙ্গলবার সৌদি কর্তৃপক্ষ সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মের টিকার অনুমোদন দেয়। ফলে সিনোফার্মের টিকা গ্রহণকারীদের ওমরাহ পালনে বাধা থাকছে না। এ নিয়ে দেশটিতে করোনার ছয়টি টিকা অনুমোদন পেল।

এবারও মিলল না উৎসের খোঁজ : করোনাভাইরাস মহামারির উত্স নিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। তবে চীনের উহানের পরীক্ষাগারের দুর্ঘটনায় নাকি প্রাণী থেকে মানুষে ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটেছে, সে বিষয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত টানতে পারেননি।

করোনাভাইরাসের উত্স নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে তিন মাস আগে এ বিষয়ে গোয়ন্দা সংস্থাগুলোকে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বাইডেন। গত মঙ্গলবার ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের (ডিএনআই) পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছে করোনার উত্সসংক্রান্ত প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করা হয়, কিন্তু চীনের উহান শহরের জীবাণু গবেষণাগারের তথ্য পর্যালোচনা করে এ ভাইরাস কোথা থেকে এসেছে, সে প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি।

চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ২০১৯ সালের শেষ দিকে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ বৈশ্বিক মহামারির রূপ নেয়।

মহামারির মোকাবেলায় মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি এর উত্স সন্ধানে তত্পর হয় যুক্তরাষ্ট্র। চীনের পরীক্ষাগারে ‘দুর্ঘটনাবশত’ এই ভাইরাস তৈরি হয়েছে—এমন তত্ত্বের বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে গোয়েন্দাদের চাপ দেওয়াসহ এ কাজে একটি গবেষণাদলও গঠন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। উদ্দেশ্যমূলকভাবে করোনাভাইরাস সৃষ্টি করা হয়েছে, এমন তত্ত্ব পরে নাকচ করে দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এই ভাইরাস পরীক্ষাগারে গবেষণার সময় দুর্ঘটনাবশত ছড়িয়ে পড়েছে, নাকি প্রাকৃতিকভাবে এর উত্পত্তি, সে বিষয়ে তারাও কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি।

পরীক্ষাগার থেকে ছড়িয়ে পড়ার তত্ত্ব নিয়ে অনেক গবেষক প্রাথমিকভাবে সন্দেহ প্রকাশ করলেও এ বছর বেশ কয়েকজন বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য খোলামেলা কথা বলেন। পরীক্ষাগার থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনার প্রমাণ মেলেনি জানিয়ে গত মার্চে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) দেওয়া প্রতিবেদনেরও সমালোচনা করেন গবেষকদের কেউ কেউ।

ডাব্লিউএইচওর ওই প্রতিবেদনের পর মহামারির উত্পত্তি নিয়ে সংস্থাটির আর কোনো অনুসন্ধানে চীন সরকার সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে বাইডেন প্রশাসন সে সময় হতাশা প্রকাশ করেছিল। চীনের ওই অবস্থানকে ‘এক রোখা’ আখ্যায়িত করে এবং গোয়েন্দাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি পর্যালোচনা করে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় বাইডেন প্রশাসন। তবে বর্তমান এবং সাবেক কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বারবার সতর্ক করে বলেছেন, সুনির্দিষ্টভাবে মহামারির উত্স খুঁজে বের করা গোয়েন্দাদের নয়, বরং বিজ্ঞানীদের কাজ। তাঁরা আরো বলেছিলেন, একটি সুনিশ্চিত উপসংহারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ৯০ দিনের বেঁধে দেওয়া সময় যথেষ্ট নয়। সূত্র : এএফপি, আনন্দবাজার পত্রিকা।



সাতদিনের সেরা