kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আফগান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন আঞ্চলিক নেতারা

♦ ‘সীমান্ত এলাকায় অনেক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সংগঠিত হচ্ছে’
♦ গণমাধ্যম শাখার প্রধান নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফগান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন আঞ্চলিক নেতারা

আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশ। গতকাল শুক্রবার তুর্কমেনিস্তানে এক আঞ্চলিক সম্মেলনে এসব দেশের নেতারা জানান, আফগান সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে এরই মধ্যে অনেক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে অবিলম্বে শান্তিচুক্তি প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তাঁরা।

এদিকে রাজধানী কাবুলে গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন আফগান সরকারের গণমাধ্যম শাখার প্রধান দাওয়া খান মেনাপাল। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংগঠন হামলার তাঁকে হত্যার দায় স্বীকার করেনি। তবে সরকারি বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কয়েক দিন আগে সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি দিয়েছিল তালেবান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিরওয়াইস স্তানিকজাই মনে করেন, তালেবান যোদ্ধারাই দাওয়া খানকে হত্যা করেছে।

মাস দুয়েক আগে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও ন্যাটো সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। মূলত এর পর থেকেই তালেবানের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায় দেশটিতে। তালেবানের সঙ্গে সরকারি সেনাদের লড়াইয়ের তীব্রতা বাড়তে থাকে। ধারণা করা হয়, আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক এলাকা বর্তমানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী শহর ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলো পুরো তাদের কবজায় চলে গেছে। আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ‘আচমকা’ সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি।

তালেবানের এই অগ্রযাত্রা রাশিয়াসহ আশপাশের কয়েক দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের দুর্গ হিসেবে পরিচিত তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান—এই তিন দেশের সঙ্গেই আফগানিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তবর্তী বেশির ভাগ শহরই এখন তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর এসব শহরে রয়েছে অনেক সন্ত্রাসী সংগঠন, যেগুলো তালেবানের ছত্রচ্ছায়ায় চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল তুর্কমেনিস্তানের সমাবেশে তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাখমোন জানান, তাঁদের দেশের সঙ্গে আফগানিস্তানের যে সীমান্ত রয়েছে, তার প্রায় পুরোটাই তালেবান নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি বলেন, ‘এসব এলাকায় অনেক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সংগঠিত হচ্ছে।’

উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজায়োইয়েভ বলেন, আফগানিস্তানে অবিলম্বে একটা শান্তিচুক্তি দরকার।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, তালেবান ও সরকারি সেনাদের মধ্যে লড়াই চলা অবস্থায় সেখানে কোনো শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়।

তুর্কমেনিস্তানে যখন এই সম্মেলন চলছে, তখন আফগান সীমান্তবর্তী তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানে যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে রাশিয়া। দেশটির সামরিক বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ ভ্যালারি জেরাসিমভ বলেন, ‘যেকোনো সন্ত্রাস মোকাবেলার প্রস্তুতি হিসেবে এই মহড়া চলছে।’ আফগান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে তালেবানের বিপক্ষে ও সরকারি সেনাদের পক্ষে রাজধানী কাবুলে মিছিল হয়েছে। কয়েক হাজার বেসামরিক ব্যক্তি গতকালের এই মিছিলে অংশগ্রহণ করে।

সূত্র : এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।



সাতদিনের সেরা