kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

‘কাবুলে চলছে প্রতিশোধ’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘কাবুলে চলছে প্রতিশোধ’

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে তালেবানের হামলার পরদিনই আবার বোমায় প্রকম্পিত হলো রাজধানী কাবুল। গতকাল বুধবার আফগানিস্তানের প্রধান নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল ডিরেক্টরেট অব সিকিউরিটির দপ্তরের কাছে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে তিনজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে দুজন বেসামরিক এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এর আগে গত মঙ্গলবার কাবুলের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এর দুই ঘণ্টার মাথায় কাবুলের অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকায় অবস্থিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ মোহাম্মদির বাড়ির প্রাঙ্গণে বন্দুকধারীরা গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এরপর তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করার ঘটনাও ঘটে। হামলা থেকে রক্ষা পান মন্ত্রী।

সরকারি বাহিনী চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করে আক্রমণের অবসান ঘটায়। এতে হামলাকারীদের সবাই নিহত হয় বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়। এ ঘটনায় অন্তত আট বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে বলে আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

পরে তালেবান এ হামলার দায় স্বীকার করে। তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, মন্ত্রীর বাড়িতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল, এ বৈঠক লক্ষ্য করেই বাড়িটিতে হামলা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কাবুল প্রশাসনের যেসব নেতা ও চক্র দেশের বিভিন্ন জায়গায় তালেবানের ওপর আক্রমণ ও বোমা হামলার নির্দেশ দিচ্ছে, তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে কাবুলে হামলা চালানো হয়েছে। গতকালের হামলার মধ্য দিয়ে সেই প্রতিশোধের শুরু বলেও মন্তব্য করেন তালেবানের এই মুখপাত্র।

আফগানিস্তানে দুই দশকের লড়াইয়ের ইতি টেনে গত ১ মে ওই দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় তালেবানের দৌরাত্ম্য। আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি এলাকা তাদের দখলে চলে গেছে। গ্রামাঞ্চল দখল করার পর এখন তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলে তীব্র লড়াই চালাচ্ছে। বর্তমানে হেরাত, কান্দাহার ও লস্কর গাহ—এই তিন শহর দখলের লক্ষ্যে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে তালেবান।

আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, লস্কর গাহে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং সরকারি বাহিনীগুলো অতিরিক্ত সেনা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার সহায়তা পাচ্ছে। লস্কর গাহ হাতছাড়া হলে তা কাবুল সরকারের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় হয়ে দাঁড়াবে বলে স্বীকার করেন তিনি। লস্কর গাহে লড়াইয়ের তীব্রতা বাড়ায় শহরবাসীকে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। তালেবান শহরটির কিছু রেডিও ও টেলিভিশন স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং লোকজনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করা বন্ধ করতে বাড়ি বাড়ি যাওয়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ আফগানদের তুরস্কে অস্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, তা নাকচ করে দিয়েছে আংকারা।

এত দিন ধরে যে আফগানরা মার্কিন বাহিনীর জন্য দোভাষী বা অনুবাদকের কাজ করেছেন, মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে কাজ করেছেন অথবা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনজিও বা গণমাধ্যমে কাজ করেছেন, তাঁদের অস্থায়ীভাবে তুরস্কে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা গত সোমবার জানায় মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রভিত্তিক কাজ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ওই আফগানদের তুরস্কে রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু তুরস্ক গত মঙ্গলবার জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। ‘আমাদের দেশের অনুমতি ছাড়াই কোনো সমস্যার সমাধানে আমাদের দেশকে কাজে লাগানোর চেষ্টা একেবারে অগ্রহণযোগ্য’, এমনটা বলেছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা