kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

সংক্ষিপ্ত

ক্ষমা চাইলেন জাসিন্ডা

অভিবাসী বিতাড়ন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ক্ষমা চাইলেন জাসিন্ডা

নিউজিল্যান্ড সরকারের আহ্বানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলো থেকে একসময় বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক এসেছিলেন। অর্থনৈতিক সংকট ও বেকারত্বের অজুহাতে সত্তরের দশকে উল্টো তাঁদেরই দেশছাড়া করতে উঠেপড়ে লাগে সরকার। মোটামুটিভাবে ১৯৭৪ সাল থেকে এই দমন-পীড়ন শুরু হয়। সে সময় খুব ভোরে অভিবাসীদের বাড়িতে অথবা কর্মক্ষেত্রে হানা দিত পুলিশ। কারো ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হলেই তাঁকে বের করে দেওয়ার জন্য নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হতো। ইতিহাসে এ ঘটনা ‘ডন রেইডস’ বা ‘ভোরের অভিযান’ বলে কুখ্যাত হয়ে রয়েছে। ১৯৭৬ সালের দিকে এসব অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৫০ হাজারের ওপরে। সময়ের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষের মূল্যবোধে পরিবর্তন এসেছে। সেই সূত্র ধরে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন গতকাল রবিবার অকল্যান্ড শহরে এক অনুষ্ঠানে নির্যাতিত অভিবাসীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। দেশটির প্রশান্ত মহাসাগরীয় জনগোষ্ঠী বিষয়ক মন্ত্রী অপিটো উইলিয়াম সিও এ সময় উপস্থিত ছিলেন, যিনি সামোয়া থেকে নিউজিল্যান্ডে এসেছিলেন। ইতিহাসের ওই ন্যক্কারজনক ঘটনায় তিনিও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। সমালোচনার মুখে নিউজিল্যান্ডে অভিবাসী বিতাড়নের এ তৎপরতা শেষ হয় ১৯৮০ সালের দিকে। দমন-পীড়নের মুখেও অনেক অভিবাসী রয়ে গেছেন সেখানে। গতকালের অনুষ্ঠানে নির্যাতিত সেসব পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জাসিন্ডা গতকাল বলেন, ‘ইতিহাসের ওই ঘটনার ক্ষত এখনো এ জনগোষ্ঠীর মানুষ বয়ে বেড়াচ্ছে।’ এ জন্য তিনি ‘আনুষ্ঠানিক এবং অকপট ক্ষমা’ চান। আর এ ক্ষমা প্রার্থনা ‘আমার সম্প্রদায়ের জন্য এক নতুন ভোর’, এমন মন্তব্যও করেন নিউজিল্যান্ডের সরকারপ্রধান। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গার রাজকুমারী মেলে সুইলিকুতাপু ক্ষমা প্রার্থনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইতিহাসের নিন্দিত এ ঘটনার সঙ্গে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের যোগসূত্রও ছিল। নিউজিল্যান্ডে সে সময় ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা অভিবাসীরাও অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ‘ডন রেইডস’ লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল শুধু প্রতিবেশী প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোর অভিবাসীদের। সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা