kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে জান্তাপ্রধান হ্লাইং

নির্বাচন আরো দুই বছর পর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে জান্তাপ্রধান হ্লাইং

মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলের সময় জেনারেল মিন অং হ্লাইং দুই বছর পর নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ছয় মাস পর তিনি জানালেন, এখন থেকে দুই বছর পর নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। নিজেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণার পাশাপাশি নির্বাচনের সময় জানালেন এই সামরিক নেতা।

দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের ছয় মাস পর গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে গতকাল রবিবার কথা বলেন জান্তাপ্রধান হ্লাইং। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনসের (আসিয়ান) মনোনীত যেকোনো বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর সরকার কাজ করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল টেলিভিশনে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার ভাষণে মিয়ানমারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা সম্পর্কে জেনারেল হ্লাইং বলেন, ২০২৩ সালের আগস্ট নাগাদ দেশে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করবেন। ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনও করা হবে। মিয়ানমারে আসিয়ানের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে সংলাপে বসতেও রাজি জান্তা সরকার।

মিয়ানমারে জান্তা ও বিরোধীদের মধ্যে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে একজন বিশেষ প্রতিনিধি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে আসিয়ান। এ লক্ষ্যে আজ সোমবার বৈঠকে বসছেন আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসে সামরিক জান্তা। তারা সু চির বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনে। তবে ওই অভিযোগ নাকচ করে দেয় মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশন। এর পর থেকে দেশটিতে শুরু হয় সামরিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। এতে অচল হয়ে পড়েছে দেশটির সরকারি ও বেসরকারি খাতগুলো। গত শনিবারও রাজপথে বিক্ষোভ করে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দল। তবে হ্লাইংয়ের দাবি, মিয়ানমারের পরিস্থিতি এই মুহূর্তে স্থিতিশীল। দেশে ‘কিছু সন্ত্রাসী হামলা’ ছাড়া আর কোনো সমস্যা নেই বলেও মন্তব্য করেন।

মিয়ানমারের পরিস্থিতি সম্পর্কে গত শনিবার নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির সেনা শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর সশস্ত্র দমন-পীড়ন চালাচ্ছে জান্তা। আটক বিরোধী পক্ষের ওপর চালানো হয়েছে নির্যাতন। অনেককে হত্যা করা হয়েছে, যা মানবতাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

স্থানীয় পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারসের হিসাবে, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে ভিন্নমত দমনে ৯৩৯ জনকে হত্যা করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া ছয় হাজার ৯৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা