kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

ভারতে বেড়েছে ‘আর ভ্যালু’

ডেল্টা কেড়ে নিতে পারে সব অর্জন -ডাব্লিউএইচও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতে বেড়েছে ‘আর ভ্যালু’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের অতিসংক্রামক ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত টিকাই সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, করোনার ওপর যতটুকু নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা গেছে, ডেল্টার কারণে তা যেকোনো সময় হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। সংস্থাটি এ আশঙ্কাও করছে যে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি নিজেকে রূপান্তর ঘটিয়ে আরো ভয়াবহ চেহারা নিয়েও হাজির হতে পারে।

এদিকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের (এমস) প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া জানিয়েছেন, ভারতে করোনার ‘আর ভ্যালু’ বাড়ছে। এ অবস্থায় টিকাই একমাত্র ভরসা। গুলেরিয়া বলেন, ‘করোনার আর ভ্যালু .৯৬ থেকে ১ হয়েছে। এটা চিন্তার বিষয়। এর মানে হলো, একজন আক্রান্তের থেকে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে গেছে। যে এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে, সেখানে বেশি নমুনা পরীক্ষা, সংক্রমণের উৎস সন্ধান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।’

গুলেরিয়া বলেন, ‘হাম বা চিকেন পক্সের ক্ষেত্রে আর ভ্যালু প্রায় ৮। অর্থাৎ একজনের থেকে আটজনের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় দেখেছি একজনের থেকে পুরো পরিবারকে আক্রান্ত হতে। চিকেন পক্সের ক্ষেত্রেও এটাই হয়। ডেল্টায় আক্রান্ত একজনের পক্ষে গোটা পরিবারকে আক্রান্ত করার ক্ষমতা রয়েছে।’

এদিকে ডেল্টার সংক্রমণ ঠেকাতে চীনের বিভিন্ন শহরে নতুন করে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দৈনিক নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা। গতকাল রবিবার দেশটিতে ৭৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। গত মাসে পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশের নানজিং প্রদেশে প্রথম ডেল্টা ভেরিয়েন্ট পাওয়া যায়। এরপর গত এক মাসে এই ধরনটি ১২টি প্রদেশের অন্তত ২০টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।

ডাব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ডেল্টা ভেরিয়েন্টের আঘাতে এরই মধ্যে অনেক দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, করোনার বিরুদ্ধে অনেক কষ্টের অর্জন হুমকিতে পড়েছে। এই অর্জন হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কাও আছে।

এর আগে ডাব্লিউএইচওর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মাইক রায়ান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইটা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। কিন্তু ভাইরাসটি বারবার নিজের রূপ পরিবর্তন করছে।’

বৈশ্বিক পরিস্থিতি

বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ২২০টি দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ২০ কোটির কাছাকাছি। মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৪২ লাখের বেশি। সেরে ওঠার সংখ্যাও কম নয়; ১৮ কোটির মতো। চিকিৎসাধীন আছে প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে মৃদু উপসর্গ রয়েছে প্রায় এক কোটি ৪৯ লাখ মানুষের। (৯৯.৪ শতাংশ)। অন্যদের (০.৬ শতাংশ) অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিশ্বে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯৩ জন। আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার ২ শতাংশ। সূত্র : এএফপি।