kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

ঘনিষ্ঠ হচ্ছে কমিউনিস্ট চীন ও সুন্নি তালেবান

চীন-তালেবান সম্পর্ক ইতিবাচক হতে পারে : ব্লিংকেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘনিষ্ঠ হচ্ছে কমিউনিস্ট চীন ও সুন্নি তালেবান

তালেবান নেতা মোল্লাহ বারাদার

আফগান তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোল্লাহ আব্দুল গনি বারাদার গত বুধবার চীন সফরে গেছেন। আর পৌঁছেই উত্তরাঞ্চলীয় তিয়ানজিং শহরে তিনি বৈঠক করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে। এ যোগাযোগ ইতিবাচক হতে পারে বলে মনে করছেন শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক অ্যান্টনি ব্লিংকেন।

পাকিস্তানের মাধ্যমে কিছুদিন ধরেই তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে চীন। কিন্তু এই প্রথম এত উঁচু মাপের কোনো তালেবান নেতা চীন সফরে গেলেন। আর এই সফর এমন সময় হচ্ছে, যখন আফগানিস্তানের চীন সীমান্তবর্তী বাদাকশান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলো তালেবানের কবজায় চলে গেছে।

তালেবান নেতার এই সফরের চার দিন আগে আফগান পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করতে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশিকে। চেংদু শহরে দুই মন্ত্রীর দীর্ঘ বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয় যে আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে কাজ করবে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আফগানিস্তানে যেকোনো অস্থিতিশীলতার প্রভাব প্রতিবেশী চীন ও পাকিস্তানে সরাসরি পড়বে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার অত্যন্ত জরুরি।’

আগস্টের মধ্যেই মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণার পর আফগানিস্তান নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো অনিশ্চয়তা-উদ্বেগে ভুগছে। নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে সবাই এখন সচেষ্ট। তবে সবচেয়ে বেশি তৎপর হয়ে উঠেছে চীন। অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র চলে যাওয়ার পর আফগানিস্তানকে তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রকল্পে যুক্ত করার মোক্ষম সুযোগ পেয়েছে চীন। আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদের ওপর চীনের লোভ রয়েছে বলেও মনে করে অনেকে।

অবশ্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন গত বুধবার বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ একটা সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে চীন যদি আফগান ইস্যুতে সম্পৃক্ত হয়, তবে তা অবশ্যই ইতিবাচক কিছু একটা হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা র‌্যান্ড করপোরেশনের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ডেরেক গ্রসম্যান মনে করেন, ‘চীন নীরবে আফগানিস্তানে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর হয়ে উঠেছে। আর এরই মধ্যে চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরের (সিপেক) সঙ্গে আফগানিস্তানকে যুক্ত করার কথা বলছে। পেশোয়ার ও কাবুলের মধ্যে একটি মহাসড?ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে কাবুল সরকারের সঙ্গে বছর দুয়েক ধরে চীন কথা বলছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র নাখোশ হবে ভেবে আফগান সরকার এখনো তাতে সায় দেয়নি। শিনজিয়াং প্রদেশের ওয়াকান করিডর দিয়ে আফগানিস্তানের সীমান্ত পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করছে চীন।’ সূত্র : বিবিসি।