kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

তিউনিশিয়ায় মাসব্যাপী কারফিউ

দুই মন্ত্রী বরখাস্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তিউনিশিয়ায় মাসব্যাপী কারফিউ

তিউনিশিয়ার রাজধানী তিউনিশের হাবিব বুরগিবা সড়কে পুলিশের ব্যারিকেড। ছবি : এএফপি

প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্তের মধ্যে দিয়ে তিউনিশিয়ায় যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা আরো ঘনীভূত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পর দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীকেও বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদ। এ ছাড়া বিক্ষোভ দমাতে ও করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে মাসব্যাপী কারফিউ জারি করেছেন তিনি।

মহামারি মোকাবেলায় ব্যর্থতার অভিযোগে কয়েক দিন আগে বিক্ষোভ শুরু হয় উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ায়। এর মধ্যে গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী হিচেম মেচিচিকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদ। সে সঙ্গে এক মাস পার্লামেন্ট অধিবেশন বন্ধ রাখার আদেশ দেন তিনি। তাঁর এসব পদক্ষেপকে অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল ‘ইন্নাহাদা’। তবে প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তিউনিশিয়ার জনগণ ও সংবিধানকে রক্ষা করার জন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বরখাস্ত হওয়ার পর গত সোমবার প্রথম প্রতিক্রিয়া আসে প্রধানমন্ত্রী মেচিচির কাছ থেকে। তিনি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট যাঁকে পছন্দ করবেন, আমি তাঁর হাতেই ক্ষমতা হস্তান্তর করব।’

সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করেন প্রেসিডেন্ট। গত সোমবার বিরোধীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যদি কেউ একটা গুলিও ছোড়ে, তাহলে আমাদের সেনারা বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়বে।’

সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী তিউনিশে পার্লামেন্ট ভবন ঘিরে রাখেন সেনা সদস্যরা। সেখানে প্রেসিডেন্ট সাইয়েদের সমর্থকরা ইন্নাহাদার কর্মীদের উদ্দেশে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ছাড়া তারা ইন্নাহাদার নেতাদের পার্লামেন্ট কমপ্লেক্সে প্রবেশ করতে দেয়নি। মেচিচির কার্যালয়ও সারা দিন সেনারা  ঘিরে রেখেছিলেন। সন্ধ্যার পর প্রেসিডেন্ট সাইয়েদ কারফিউ জারি করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

তিউনিশিয়াকে বলা হয় আরব বসন্তের একমাত্র ‘সফল গল্প’। ২০১১ সালের ওই আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে ‘তিউনিশিয়ান জেনারেল লেবার ইউনিয়ন’ (ইউজিটিটি)। গতকাল সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট সংবিধানের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

সোমবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সংকট নিরসনের আহবান জানিয়েছেন। একই ধরনের আহবান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ)। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা