kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও লকডাউন শিথিল ইন্দোনেশিয়ায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও লকডাউন শিথিল ইন্দোনেশিয়ায়

লকডাউন শিথিল করলে ইন্দোনেশিয়া কভিড-১৯-এর আরেকটি ঢেউ দেখতে পারে—বিশেষজ্ঞদের এমন হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও গতকাল সোমবার দেশটিতে চলমান বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়েছে। ছোট ছোট দোকান, ফুটপাতের রেস্তোরাঁসহ বেশ কিছু শপিং মল গতকাল খুলতে দেখা গেছে। করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরন দ্রুতহারে ছড়িয়ে পড়ায় এশিয়ায় করোনা মহামারির নতুন কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে দেশটি। এর পরেই রয়েছে ভারত ও ব্রাজিল।

আগের দিন রবিবার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো জানান, জুলাইয়ের শুরুতে যে আংশিক লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল তা আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। করোনার এই ভয়াবহতার মধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার অনেক ছোটখাটো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়েছে। এ ছাড়া তুলনামূলক কম সংক্রমণ হওয়া এলাকাগুলোর শপিং মল ও মসজিদ সীমিত পরিসরে খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও ইন্দোনেশিয়াজুড়ে বিশেষ করে দেশটির ঘনবসতিপূর্ণ জাভা দ্বীপের হাসপাতালগুলোতে রোগী উপচে পড়ছে। এ অবস্থায় যেসব এলাকায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি, সেসব এলাকায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) পরিধি বাড়াচ্ছে সরকার।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ২৭ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় মৃত্যুর হার তিন গুণ বেশি। ইন্দোনেশিয়ার ২০ কোটি ৮০ লাখ নাগরিক করোনার টিকা দেওয়ার উপযোগী থাকলেও টিকার দুই ডোজ পেয়েছে ৭ শতাংশেরও কম লোক। দেশটিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) আরো কঠোর বিধি-নিষেধ জারির আহ্বানের মধ্যে লকডাউন শিথিল করায় আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছে উইদোদোর সরকার।

মালয়েশিয়া

করোনা সংক্রমণ রোধে মালয়েশিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি থাকবে আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর এ সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। গতকাল মালয়েশিয়ার এক মন্ত্রী জানান, দীর্ঘ এক মাস স্থগিত থাকার পর পার্লামেন্টের কার্যক্রম শুরু হবে। কভিড-১৯-এর সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান আব্দুল্লাহ গত জানুয়ারিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পার্লামেন্টের কার্যক্রমও স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তবু ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। চলতি সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ লাখেরও বেশি লোকের সংক্রমণ হয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় আট হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে।

চীন

চীনে গতকাল নতুন করে ৭৬ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গত জানুয়ারি থেকে আক্রান্তের এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। পারিবারিকভাবে একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ায় ৪০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। ফলে পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশে কর্তৃপক্ষ কয়েক লাখ লোকের কভিড টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গতকাল এক বিবৃতিতে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, ৪০ জনের মধ্যে ৩৯ জনই জিয়াংসু প্রদেশের। বাকি একজন লিয়াওনিং প্রদেশের। তবে নতুন করে কারো মৃত্যু হয়নি। জিয়াংসুর রাজধানী নানজিংয়ে ১০ হাজারেরও বেশি নাগরিক লকডাউনের আওতায় রয়েছে। গত সপ্তাহে শহরটিতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ৯২ লাখ লোকের দ্বিতীয়বারের মতো কভিড-১৯ টেস্ট করা হয়। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা