kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন প্রেসিডেন্ট

রাজনৈতিক সংকটে তিউনিশিয়া

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফেরানোর আহবান আন্তর্জাতিক মহলের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজনৈতিক সংকটে তিউনিশিয়া

তিউনিশিয়াজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিচেম মেচিচিকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদ। সেই সঙ্গে ৩০ দিনের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত করা হয়েছে। দেশটিতে কভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতার জেরে অসংখ্য মানুষ রবিবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপকে সামরিক অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় দল ইসলামপন্থী এন্নাহদা পার্টি।

প্রেসিডেন্টের সংসদ স্থগিত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর মধ্যরাতে পার্লামেন্টে ঢুকতে চেয়েছিলেন এন্নাহদার নেতা ও পার্লামেন্টের স্পিকার রাশিদ গানুশি, কিন্তু সেনা সদস্যরা তাঁকে ঢুকতে দেননি। পরে তিনি সেখানেই সমর্থকদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এন্নাদাহ তাঁর কর্মী-সমর্থকদের রাজপথে আন্দোলনে নামার আহবান জানিয়েছে। গতকাল সোমবার সংসদের সামনে জড়ে হয়ে প্রেসিডেন্টের সমর্থক ও বিরোধীরা একে অন্যের দিকে পাথর ছুড়ে মারে।

১০ বছর আগে তিউনিশিয়ান বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশটিতে গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল এবং এখান থেকেই আরব বসন্তের বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে আশা করা হয়েছিল এমন পরিবর্তনের ফলে আরো বেশি চাকরি ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে, কিন্তু সেখানেও হতাশ হতে হয়েছে। এক দশক পরে তিউনিশিয়া একটি গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে এবং আফ্রিকার সবচেয়ে ভয়াবহ করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে লড়াই করছে। এই অবস্থায় ফের রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ল দেশটি।

পার্লামেন্ট স্থগিত ও প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্তের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল। তুরস্ক, জার্মানি, রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ তিউনিশিয়ায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহবান জানিয়েছে।

হিচেম মেচিচি এন্নাহদা পার্টির সদস্য। আর প্রেসিডেন্ট সাইদ স্বতন্ত্র রাজনীতিবিদ। ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন। এর পর থেকে প্রধানমন্ত্রী ও এন্নাহদার প্রধান রাশিদ গানুশির সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে বিবাদ বাধে সাইদের। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দ্বন্দ্বের কারণে মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগ, করোনা মোকাবেলা এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধান ইত্যাদি কাজ ব্যাহত হয়েছে।

তিউনিশিয়ায় সম্প্রতি করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণের হার বেড়েছে। প্রায় এক কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে করোনায় প্রায় ১৮ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার পার্লামেন্ট স্থগিত করার কয়েক ঘণ্টা আগে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্য সরকারকে দায়ী করে বিক্ষোভ হয়েছে। এরপর প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পর আনন্দ মিছিলও বের হয়েছে। তবে এন্নাহদার এক মুখপাত্রের দাবি, এসব মিছিল প্রেসিডেন্ট সাইদের পরিকল্পনায় করা হয়েছে।

রবিবার কাইস সাইয়েদ ঘোষণা করেছেন যে তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় এবার নিজেই দায়িত্ব নেবেন। তিনি আরো জানান যে তিনি দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চান।

সাইয়েদ তাঁর ভবনে জরুরি নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকের পর এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ‘আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতক্ষণ না পর্যন্ত তিউনিশিয়ায় সামাজিক শান্তি ফিরে আসে এবং দেশকে রক্ষা করা যায়।’

প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এমন খবর পাওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা উৎসব করতে থাকে। অন্যদিকে রাজধানী তিউনিশ ও অন্য শহরগুলোয় হাজার হাজার মানুষ ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে এবং ‘বেরিয়ে যাও’ স্লোগান দিয়ে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার আহবান জানায়।

সাইয়েদ সামরিক শক্তি ব্যবহার করে এই সহিংসতার জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সতর্ক করে দিতে চাই কেউ যদি অস্ত্র হাতে নেওয়ার কথা চিন্তা করে...কেউ যদি একটা বুলেটও ছোড়ে... তাহলে সশস্ত্র বাহিনী গুলি করেই তার জবাব দেবে।’ সূত্র : বিবিসি, এএফপি।



সাতদিনের সেরা