kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

তালেবান ঠেকাতে কারফিউ

বিমান হামলা চালাতে মার্কিন সহায়তা চায় কাবুল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তালেবান ঠেকাতে কারফিউ

তালেবানের অগ্রযাত্রা থামাতে প্রায় পুরো দেশেই কারফিউ জারি করেছে আফগান সররকার। মাসব্যাপী এই কারফিউ শুরু হয় গত শনিবার থেকে। কারফিউ জারি থাকবে প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত। তালেবানের হাত থেকে বিভিন্ন শহর পুনর্দখল করতে হলে আগে তাদের অগ্রযাত্রা থামাতে হবে—মার্কিন প্রশাসনের এমন পরামর্শের পরই কারফিউ দিল আফগান সরকার।

মাস দুয়েক আগে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও ন্যাটো সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে তালেবানের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। তালেবানের সঙ্গে সরকারি সেনাদের লড়াইয়ের তীব্রতা বাড়তে থাকে। ধারণা করা হয়, আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক এলাকা বর্তমানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী শহর ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলো পুরো তাদের কবজায় চলে গেছে। তালেবানের দাবি, ৮৫ শতাংশ এলাকা এরই মধ্যে তারা দখল করে নিয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে শান্তি আলোচনা একেবারেই মন্থর হয়ে পড়েছে। ফলে সেখানে যুদ্ধবিরতির কোনো সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। দুই পক্ষের লড়াই কিছুদিনের মধ্যে বড় বড় শহরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে।

২০ বছর আগে মার্কিন অভিযানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয় তালেবান। তবে দেশটিতে তাদের সামরিক কিংবা মতাদর্শিক আধিপত্য খুব একটা খর্ব হয়নি। বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক ও সীমান্ত তাদের দখলে রয়েছে।

এ অবস্থায় গত শনিবার ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ৩১টিতে কারফিউ জারি করা হয়। পাঞ্জশির ও নঙ্গারহার প্রদেশের পাশাপাশি রাজধানী কাবুল কারফিউয়ের বাইরে থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সহিংসতা কমানোর পাশাপাশি তালেবানের অগ্রযাত্রা থামানোর লক্ষ্যে ৩১টি প্রদেশে এক মাসের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩১ আগস্টের মধ্যেই আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, কিন্তু আফগানিস্তানের আইন প্রণেতারা চাইছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন তাদের বিমান হামলায় সহযোগিতা করে। গত শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে আফগান আইন প্রণেতারা উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া তাঁদের পক্ষে বিমান হামলা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। বৈঠকে আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট সদস্য হাজি আজমল রাহমানি বলেন, ‘আমাদের এখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি খুবই শোচনীয় হয়ে পড়ছে।’ তিনি জানান, ‘লেজার-গাইডেড মিউনিশন’ (বোমা হামলায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি) প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। বেসামরিক লোকজন কিংবা স্থাপনার ক্ষতি এড়িয়ে শত্রুপক্ষের অবস্থান চিহ্নিত করে বোমা হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ‘লেজার-গাইডেড মিউনিশন’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে মার্কিন আইন প্রণেতারা এই প্রযুক্তি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু তা আফগানিস্তানে পৌঁছাতে মোটামুটি এক বছর সময় লাগবে। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, ‘তালেবানকে থামানো যাবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে আমি বলব, সবার আগে তাদের অগ্রযাত্রার গতি টেনে ধরতে হবে। আমার ধারণা, আফগান সেনাদের সেই সক্ষমতা আছে। কিন্তু সেখানে কী ঘটবে, তা সময়ই বলে দেবে।’

সূত্র : বিবিসি, এএফপি।



সাতদিনের সেরা