kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

শান্তির কোনো লক্ষণ নেই আফগানিস্তানে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মার্কিন ও ন্যাটো সেনারা ফিরে যেতে না যেতেই আফগানিস্তানের রাজনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দিন দিন বাড়ছে। তালেবান ও সেনাদের মধ্যকার লড়াই তীব্র হচ্ছে দেশটির বিভিন্ন এলাকায়। গত শুক্রবার দুটি প্রদেশে বিমান হামলায় তালেবানের ৩০ যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার কারণে আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া আফগানিস্তানে শান্তি ফেরানোর আর কোনো পথ নেই।

এদিকে আফগানিস্তানে যাওয়া ভারতীয় পর্যটক এবং কর্মরত নাগরিকদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা জারি করেছে কাবুলে থাকা ভারতীয় দূতাবাস। গতকাল শনিবার জারি করা সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘আফগানিস্তানের পরিস্থিতি বিপজ্জনক। সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষকে নিশানা করছে। ভারতীয়দেরও হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ এই পরিস্থিতিতে বিনা প্রয়োজনে আফগানিস্তানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারতীয়দের। সে দেশে কর্মরত ভারতীয়দের রাস্তাঘাটে যাতায়াতের সময় বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জনাকীর্ণ বাজার, শপিং মল, মন্দির ও রেস্তোরাঁয় না যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে ওই নির্দেশিকায়।

টানা প্রায় দুই দশক থাকার পর আফগানিস্তান ছাড়তে শুরু করেছে মার্কিন ও ন্যাটো সেনারা। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যেই সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে তালেবানের। সংগঠনটি দাবি করেছে, আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ এলাকা এরই মধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

গতকাল দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করে, শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ ও শিবারগান প্রদেশে তালেবানের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গাহ’র পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিহত হয় তালেবানের ১৪ সদস্য। অন্যদিকে ১৯ তালেবান সদস্য নিহত হয় শিবারগান প্রদেশের তাব্বিন এলাকায়।

অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় আফগান সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। গতকাল দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ জানান, আফগান সীমান্তে এত দিন আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন ছিল, কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় তাদের প্রত্যাহার করে সেখানে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, শুধু শরণার্থীদের প্রবেশ ঠেকানোর লক্ষ্যেই সেনা মোতায়েন করা হয়নি। সেনা সদস্যরা সশস্ত্র ব্যক্তি কিংবা সন্ত্রাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর দায়িত্বও পালন করবেন। 

পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আফগান সেনারা যাতে পাকিস্তানে ঢুকতে না পারে, মূলত সে জন্যই সীমান্তে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কারণ চলতি মাসেই এক হাজারের বেশি আফগান সেনা পালিয়ে তাজিকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, একমাত্র রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই আফগানিস্তানে শান্তি ফেরানো সম্ভব। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘আমরা মনে করি সেখানে রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। যদিও আফগান জনগণকে সুরক্ষার জন্য সে দেশের সরকারকে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাব।’ এদিন হোয়াইট হাউস আরো জানায়, আফগানিস্তানের জন্য ১০ কোটি ডলারের জরুরি সাহায্য তহবিল ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

সম্প্রতি এমএসএনবিসি-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, আফগানিস্তান যেন আরেকবার সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পরিণত হতে না পারে, সেদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নজর থাকবে। লক্ষ্য অর্জন হওয়ার কারণেই মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান ছাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা