kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

প্রথমবার তিব্বতে প্রেসিডেন্ট চিনপিং

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রথমবার তিব্বতে প্রেসিডেন্ট চিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শি চিনপিং প্রথমবারের মতো দেশটির বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত সফর করছেন। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম হিমালয়ের কোলঘেঁষা অঞ্চলটিতে গেলেন কোনো চীনা রাষ্ট্রপ্রধান। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে গতকাল শুক্রবার এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে সফর শেষে বেইজিং পৌঁছেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

চিনপিং এর আগে আরো দুইবার তিব্বত সফর করেছেন, তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়। ১৯৯৮ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) প্রতিনিধি হয়ে এবং ২০১১ সালে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তিব্বত সফর করেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্র শুক্রবার জানায়, চিনপিং তিব্বতের ভারত সীমান্তসংলগ্ন নিয়াংচি শহর থেকে বিদ্যুত্চালিত ট্রেনে চড়ে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির রাজধানী লাসায় পৌঁছান। তিব্বতের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেনটি গত মাসে চালু হয়েছে। লাসায় পৌঁছে চিনপিং তিব্বতের আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় নেতা দালাই লামার পোটালা প্রাসাদসংলগ্ন দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শন করেন।

এর আগে গত বুধবার তিব্বতের ইয়ারলুং জাংবো নদীর অববাহিকায় পরিবেশ সংরক্ষণ কাজ পরিদর্শন করেন চিনপিং। ব্রহ্মপুত্র নদের উজানে নির্মাণাধীন বাঁধটি এ নদীর মোহনায়ই অবস্থিত। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ সিচুয়ান থেকে তিব্বত পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপনের কাজও পরিদর্শন করেন তিনি।

সফর সম্পর্কে চীনা গণমাধ্যম বলছে, তিব্বতের ধর্মীয়-জাতিগত বিষয়, প্রাচীন অঞ্চলটি সংরক্ষণ সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে, সেই সঙ্গে সেখানকার সাংস্কৃতিক সুরক্ষা কার্যক্রমে ও উত্তরাধিকার সম্পর্কে জানতে ওই অঞ্চল সফর করেছেন চিনপিং।

তিব্বতের ওপর চীন সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করলেও দালাই লামার নেতৃত্বে ১৯৫৯ সালে স্বাধিকার আন্দোলন শুরু করে এ অঞ্চলের অধিবাসীরা। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে তাঁকে নির্বাসিত হতে হয়েছে। বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত দালাই লামা। ভারতের সঙ্গে চীনের বৈরিতার বড় একটি কারণও এটি।

চীনা নিয়ন্ত্রণে নাখোশ তিব্বতিদের মন পেতে বেইজিং সেখানে নানা উন্নয়নকাজ চালিয়ে আসছে। পর্যটন, আকাশপথ, রেলপথ, রাজপথসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নকাজ করছে বেইজিং। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উন্নয়নকাজের দোহাই দিয়ে তিব্বতের ওপর বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ আরো পোক্ত করতেই চিনপিংয়ের এ সফর করেছেন।

বেইজিং তিব্বতের ওপর রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আধিপত্য চালিয়ে আসছে। সেই সঙ্গে বেইজিংয়ের সমালোচকদের ওপর জেল-জুলুমও চালু রয়েছে। তিব্বতি ভাষায় শিক্ষাদানের পরিবর্তে চীনা ভাষার প্রসার ঘটাচ্ছে বেইজিং। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।



সাতদিনের সেরা