kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

তালেবান সহিংসতা বন্ধের আহবান ১৫ কূটনৈতিক মিশনের

দোহায় আফগান সরকার ও তালেবানের শান্তি বৈঠক শেষ হয়েছে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফগানিস্তানে সহিংসতা থামাতে ন্যাটো প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করবে ১৫টি কূটনৈতিক মিশন। গতকাল সোমবার কাবুলে তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে। তারা একত্রে পুরো আফগানিস্তানে চলমান সহিংসতা বন্ধ করতে তালেবান সামরিক বাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়েছে।

এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় আফগান সরকার ও তালেবানের শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এবারও বৈঠকে অস্ত্রবিরতি সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বৈঠক শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ন্যাটোসহ কূটনৈতিক মিশনগুলো ওই ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

দুই দিন ধরে দোহায় আফগান নেতাদের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি তালেবান নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, কিন্তু এ বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। বৈঠকের পর গত রবিবার তালেবানের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে অস্ত্রবিরতিসংক্রান্ত কোনো তথ্য ছিল না। তবে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শিগগিরই আবারও বৈঠকে বসার কথা জানিয়েছেন তালেবান ও আফগান প্রতিনিধিরা।

এদিকে ১৫ মিশন ও ন্যাটোর প্রতিনিধিরা আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তালেবানকে তাদের অস্ত্র সংবরণের অনুরোধ জানিয়েছে। তাঁরা বলেন, ‘তালেবান শান্তিপ্রক্রিয়া তরান্বিত করতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের উচিত, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে অস্ত্রবিরতি দেওয়া।’ আজ মঙ্গলবার আফগানিস্তানে ঈদুল আজহা পালিত হবে।

একটি যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা তালেবান বাহিনীর প্রতি এ আহবান জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনামার্ক, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতিনিধি, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর প্রতিনিধিরা এই যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

এর আগের কয়েক ঈদের ছুটিতে তালেবান অস্ত্রবিরতি দিয়েছিল। তালেবানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তারা চায় আফগানদের এ দিনগুলো শান্তিতে কাটুক। তবে এবারের ঈদে তালেবানের পক্ষ থেকে এখনো অস্ত্রবিরতির কোনো ঘোষণা আসেনি।

কয়েক মাস ধরেই তালেবান বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন আফগান সরকারের প্রতিনিধিরা, কিন্তু তালেবানরা দেশটির বড় অংশ দখল করে নেওয়ায় সে আলোচনায় ভাটা পড়ছে। আফগানিস্তানে সংঘাত বাড়ার মধ্যেই গত শনিবার দোহায় বৈঠকে বসেছিলেন আফগান সরকার ও তালেবান প্রতিনিধিরা।

দোহা আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী কাতারের ‘সন্ত্রাসবাদবিরোধী’ দূত মুতলাক আল কাহতানি বলেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছার আগ পর্যন্ত দুই পক্ষই উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে তারা আবারও বৈঠকে বসবে।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুযায়ী, আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিদেশি সেনা চলে যাওয়া সেখানের দখল তালেবান বাহিনীর হাতে চলে যাচ্ছে। ২০ বছর ধরে দেশটিতে বিদেশি সেনারা তালেবান দমনে কাজ করে গেছে, কিন্তু সেনা প্রত্যাহার হয়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ জোরদার করেছে। তালেবানের হামলার মুখে হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক বাড়িঘর ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। তালেবান যোদ্ধারা এরই মধ্যে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের কয়েকটি ক্রসিং এবং সীমান্তবর্তী জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে, কিন্তু এখনো বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব বিদেশি সেনা আফগানিস্তান ছেড়ে যাবে, তার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় পৌছানোর চেষ্টা চলছে।

সূত্র: রয়টার্স।