kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

ইংল্যান্ডে সংক্রমণ বাড়লেও উঠল বিধি-নিষেধ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইংল্যান্ডে সংক্রমণ বাড়লেও উঠল বিধি-নিষেধ

যুক্তরাজ্যজুড়ে করোনাভাইরাসের নতুন একটি ঢেউ শুরু হলেও বেশির ভাগ বিধি-নিষেধ তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। সোমবার মধ্যরাত থেকে বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার পর রাজধানী লন্ডনের অনেক তরুণ বাসিন্দা বিধি-নিষেধমুক্ত একটি লাইভ সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নেন। গত বছর মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রথম তাঁরা সারা রাত ধরে নেচেছেন ও অনেকে মিলে আনন্দ করেন।

গত রবিবার স্থানীয় সময় বিকেলে টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ইংল্যান্ডকে লকডাউন থেকে বের করে আনার এটিই ‘উপযুক্ত সময়’। আরো দেরি করলে শরৎ ও শীতকালে করোনাভাইরাস ‘শীতল আবহাওয়ার সুবিধা পেতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের প্রাপ্তবয়স্ক জনসাধারণের ৬৮ শতাংশকে টিকার দুটি ডোজ দেওয়ার পর ইংল্যান্ড থেকে বেশির ভাগ বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার পদক্ষেপ নেয় জনসন সরকার। সংক্রমণের পূর্ববর্তী ঢেউয়ের তুলনায় এবার কভিড-১৯ জনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা, গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর সংখ্যা কম হবে বলে ধারণা করছে তারা। কতজন লোক একসঙ্গে জড়ো হয়ে সাক্ষাৎ করতে পারবে বা কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারবে এখন তার ওপর আর কোনো বিধি-নিষেধ নেই। মধ্যরাতেই নাইট ক্লাবগুলো খোলা হয়, পাব ও রেস্তোরাঁয় টেবিল সার্ভিসের আর প্রয়োজন হবে না। কিছু এলাকায় মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হলেও তা বাধ্যতামূলক নয়। এ পরিস্থিতিতে বিধি-নিষেধ প্রশ্নে ব্রিটিশ সমাজ বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ভাইরাস মানুষ মারা অব্যাহত রাখবে, এমন আশঙ্কায় শঙ্কিত লোকজন কঠোর বিধি-নিষেধ ধরে রাখার পক্ষে। আর শান্তিকালীন সময়ে সবচেয়ে কঠোর এ বিধি-নিষেধে যারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে তারা এর বিপক্ষে মত দিয়েছে।

কভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষে থাকা দেশগুলোর একটি ব্রিটেন। দেশটিতে সংক্রমণের নতুন ঢেউ শুরু হলেও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইংল্যান্ডে বেশির ভাগ বিধি-নিষেধ তুলে নিয়েছেন, যাকে কিছু লোক ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলে অভিহিত করছে।

বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়া ঠিক হলো কি না, এপিডিমিওলজিস্টরা তা নিয়ে সংশয়ে থাকলেও ব্রিটেনের তরুণ বয়সীরা দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কঠোর লকডাউনে আছেন এবং এখন তাঁরা বন্ধুদের সঙ্গে মিলে ফুর্তি করতে চাইছেন।

পূর্ব লন্ডনের হাকনি এলাকার ওভাল স্পেসের সংগীতানুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা ৩১ বছর বয়সী জর্জিয়া পাইক বলেন, ‘যেন চিরকালের জন্য আমাকে নাচার অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমি নাচতে চাই, আমি লাইভ মিউজিক শুনতে চাই, অন্য লোকজনের সঙ্গে সংগীতানুষ্ঠান উপভোগ করতে চাই।’

তবে আনন্দের জন্য উদ্বেল হয়ে থাকা এই উৎসাহের পাশাপাশি সংক্রমণের নতুন ঢেউয়ে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়েও পরিষ্কার উদ্বেগ আছে। এখন যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন ৫০ হাজারেও বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

লাইভ মিউজিক ফিরে আসা উদযাপন করতে আয়োজিত ‘০০:০১’ অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে গ্যারি কার্টমিল (২৬) বলেন, ‘আমি খুবই অধীর হয়ে আছি, কিন্তু আসন্ন নিয়তির ভাবনাও এর সঙ্গে মিশে আছে।’

শ্রীলঙ্কায় করোনার শক্তিশালী ধরন শনাক্ত

শ্রীলঙ্কায় করোনাভাইরাসের আরো শক্তিশালী একটি স্ট্রেইন শনাক্ত হয়েছে। অধিক সংক্রামক নতুন এই স্ট্রেইনটি বাতাসের মাধ্যমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কলম্বোর একজন শীর্ষস্থানীয় ইমিউনোলজিস্ট জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কায় এর আগে পাওয়া করোনার অন্য যেকোনো স্ট্রেইনের চেয়ে এটি শক্তিশালী।

শ্রী জয়াবর্ধনপুর ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজি অ্যান্ড মলিকিউলার সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান নীলিকা মালাভিগে। তিনি বলেছেন, অত্যন্ত রূপান্তরযোগ্য এই স্ট্রেইনটি  ঘণ্টাখানেক বায়ুবাহিত অবস্থায় থাকতে পারে এবং এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের এই ধরনটি এই দ্বীপে এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন। নতুন এই স্ট্রেনটি বায়ুবাহিত। এর ফোঁটাগুলো ঘণ্টাখানেক বাতাসে ভেসে থাকতে সক্ষম।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, গত সপ্তাহে স্থানীয় নববর্ষ উদযাপনের পর নতুন ধরনের ভাইরাসটি আরো ছড়িয়ে পড়ছে। ওই উদযাপন থেকে অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের অনেকের মধ্যেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য পরিদর্শক উপুল রোহানা বলেন, পরবর্তী দুটি ইনকিউবেশন পিরিয়ডে ভাইরাসটির তৃতীয় ঢেউ তৈরি হতে পারে। আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই বাস্তব চিত্র সামনে আসবে। সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স, ইন্ডিয়া ডটকম।