kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ

ইস্তাম্বুল সনদ থেকে বিদায় নিল তুরস্ক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নারী হত্যা এবং নারীর  প্রতি পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধসংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক। গতকাল বৃহস্পতিবার আংকারা এই তথ্য জানায়। তবে এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের গণমাধ্যমবিষয়ক শীর্ষ সহযোগী ফাহরেত্তিন আলতুন জানান, বৈষম্যমূলক নির্যাতন রোধের স্বার্থে চুক্তিতে যেসব বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে, সেগুলোর অপব্যবহার করতে শুরু করে সমকামীরা। বলা দরকার, অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনামল থেকে তুরস্কে সমকামিতা বৈধ ছিল। অথচ সমকামিতা এবং সমকামী, উভকামী ও তৃতীয় লিঙ্গের এলজিবিটিকিউ আন্দোলন তুরস্কের সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গত মঙ্গলবার তুরস্কের শীর্ষ প্রশাসনিক আদালত এ চুক্তি রদে করা এক আবেদন খারিজ করে দেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এরদোয়ানের আছে বলে আদালত জানান।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানায়, দেশটিতে এরই মধ্যে ব্যাপক হারে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। আংকারার এমন সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির নারীদের প্রতি সহিংসতাকে আরো ঝুঁকির মুখে ফেলা হলো।

তুরস্কের উই উইল স্টপ ফেমিসাইড প্ল্যাটফর্মের হিসাব মতে, গত বছর দেশটিতে কমপক্ষে ৩০০ নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং চলতি বছরে এ পর্যন্ত ১৮৯ নারীকে হত্যা করা হয়েছে।

ইস্তাম্বুল সনদ নামে পরিচিত এ আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গত মার্চেই একটি ডিক্রি জারি করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। পশ্চিমা বিশ্ব ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিন্দার মুখেই বিতর্কিত এ পদক্ষেপ নেন এরদোয়ান। নারী অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সম্প্রতি এরদোয়ানের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ায় দেশটির রক্ষণশীলদের মন রক্ষা করতেই তিনি এমন পদক্ষেপ নিলেন।

২০১১ সালে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও পারিবারিক সহিংসতা রোধে কাউন্সিল অব ইউরোপ কনভেশন নামের আন্তর্জাতিক চুক্তিতে প্রথম দেশ হিসেবে সই করে তুরস্ক। এ চুক্তিতে ইইউ ও আরো ৪৫ দেশ সই করে। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা