kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষে চিনপিং

লাগতে এলে মাথা থেঁতলে দেওয়া হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লাগতে এলে মাথা থেঁতলে দেওয়া হবে

পিছিয়ে পড়া উপনিবেশ থেকে বৃহৎ শক্তি হয়ে ওঠা—চীনের এমন ‘অপ্রতিরোধ্য’ উত্থানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠেন প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। গতকাল বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন চায়নিজ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) শততম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি দেশ ও দলকে প্রশংসার বন্যায় ভাসান।

চিনপিংয়ের কথায়, চীনের মানুষ শুধু পুরনো মূল্যবোধ ভেঙে ক্ষান্ত হয়নি, নতুন মূল্যবোধ গড়ে তুলেছে। শক্তিশালী চীন গড়ে তুলেছে। যেখানে দারিদ্র্য নেই, অনটন নেই। যারা চীনের সঙ্গে লাগার চেষ্টা করবে, তাদের মাথা থেঁতলে দেওয়া হবে, এমন মন্তব্য করেন এ রাষ্ট্রপ্রধান।

সিপিসির শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় তিয়ান আন মেন চত্বরে, যেখানে দাঁড়িয়ে ১৯৪৯ সালে মা ও সেতুং ‘পিপলস রিপাবলিক অব চায়না’র ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেখানে গতকাল শি চিনপিং বলেন, একসময় চীনাদের হত্যা করা হতো; তাদের নিয়ে হাসাহাসি করা হতো। সে যুগ চলে গেছে। চীনে কমিউনিস্ট শাসন গড়ে উঠেছে। কেউ আগ বাড়িয়ে লাগলে চীনের ১৪০ কোটিরও বেশি লোকের স্টিলের মহাদেয়ালে তাদের মাথা থেঁতলে দেওয়া হবে।

প্রেসিডেন্টের কথা শুনে উচ্ছ্বসিত হয় সাধারণ মানুষ। হাততালি দিয়ে তারা স্বাগত জানিয়েছে শি চিনপিংয়ের কথা। চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, কমিউনিস্ট পার্টি জাতীর পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছে। দারিদ্র্যের কবল থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছে লাখ লাখ চীনাকে। পাল্টে দিয়েছে বিশ্ব উন্নয়নের মানচিত্র।

সিপিসির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের প্রতি দলের জন্মের লক্ষ্য তথা শুরুর উদ্দেশ্য ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে শি বলেন, সিপিসির সূচনা পর্বের মনোভাব, দূঢ় আদর্শ, ধারণা ও  সাংগঠনিক নীতিতে অটল থেকে জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

মা ও সেতুং স্টাইলের জ্যাকেট পরা শি আরো বলেন, চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবন এখন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের ওই অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর জেট বিমান মহড়া দেয়। কামান থেকে গোলাবর্ষণ করে স্যালুট জানানো হয়। দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করা হয়। শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান শুরুর আগে শিক্ষার্থীরা চীনের পতাকা ওড়ায়।

১৯২১ সালের ১ জুলাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালে দলটি চীনের ক্ষমতায় আসে। এর পর থেকে ৭২ বছর ধরে দলটি চীন শাসন করে আসছে।

শি চিনপিং কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাব বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখেছেন। ২০১২ সালে তিনি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি হন এবং ২০১৩ সালের মার্চে চীনের প্রেসিডেন্ট হন। এর পরই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরেন তিনি। তাঁর সময়েই কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ৯ কোটির বেশি সদস্য রয়েছে এ দলে। মা ও সেতুং পরবর্তী চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতা হিসেবে শিকে বিবেচনা করা হয়। তাঁর অধীনে কমিউনিস্ট পার্টি চীনে আরো ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছে। কভিড মহামারি জয় থেকে শুরু করে বিশ্ব মঞ্চে অবস্থান শক্ত করা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এগিয়েছে চীন।

গতকালের অনুষ্ঠানে তাইওয়ানের ‘পুনর্মিলনের’ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা বলেন শি। একই সঙ্গে হংকং ও ম্যাকাওয়ের স্বায়ত্তশাসনের ওপর জোর দেন। শি বলেন, ‘শুধু সমাজতন্ত্রই পারে চীনকে রক্ষা করতে।’

চীনকে আরো উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শি চিনপিং বলেছেন, দেশের সামরিক শক্তি আরো উন্নত করতে হবে। সামরিক বাহিনীকে আরো আধুনিক করে তোলা হবে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, সিআরআই।



সাতদিনের সেরা