kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

জাতিসংঘের উদ্বেগ

বিশ্বের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি ‘সবচেয়ে বাজে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিশ্বের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি ‘সবচেয়ে বাজে’

বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক কাউন্সিলের প্রধান মিশাইল ব্যাশেলেট বলেছেন, বিশ্বের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে। এর পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে চীন, রাশিয়া ও ইরিত্রিয়ার উদাহরণই সবচেয়ে বেশি টেনেছেন তিনি।

জেনেভায় গতকাল সোমবার মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪৭তম অধিবেশনে ব্যাশেলেট বলেন, ‘আমাদের জীবদ্দশায় মানবাধিকার পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি অবনতি দেখা যাচ্ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে মতাদর্শ পরিবর্তনের পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।’

ব্যাশেলেট বলেন, ‘চরম দরিদ্রতা, বৈষম্য ও বিচারহীনতার ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। সংকুচিত হয়ে আসছে গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকারের পরিসর। ইরিত্রিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় টাইগ্রে এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব ঘটনা সামনে আসছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। সেখানে ইরিত্রিয়ার সেনারা যেসব দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, তার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণাদি রয়েছে।’

হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্যাশেলেট। ২০২০ সালের ১ জুলাই হংকংয়ে এই আইন জারি করে চীন। সমালোচকরা বলছেন, হংকংয়ের চীনবিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমিয়ে রাখতেই বেইজিং এই আইন করেছে। ব্যাশেলেট জানান, এই আইনের অধীনে এখন পর্যন্ত ১০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে ৫৭ জনকে। এর মধ্যে একটি মামলার বিচারকাজ চলতি সপ্তাহেই শুরু হওয়ার কথা।

চীনের জিনজিয়ান প্রদেশে মুসলিম সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্যাশেলেট। তিনি বলেন, ‘জিনজিয়ান সফরে যাওয়ার অনুমতি পেতে আমি চীনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। আশা করি, চলতি বছরেই আমি সেখানে যাওয়ার অনুমতি পাব।’

যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক পশ্চিমা রাষ্ট্রের অভিযোগ, জিনজিয়ানে উইঘুরদের ওপর চীন রাষ্ট্রীয়ভাবে নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে। বিভিন্ন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছে উইঘুর সম্প্রদায়ের কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষকে, যদিও চীন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি দমনের অভিযোগে রাশিয়ার সমালোচনাও করেছেন ব্যাশেলেট। তিনি বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাতে আমি খুবই হতাশ হয়েছি।’ রাশিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন করে আলোচনায় আসা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে আটক করার ঘটনা নিয়েও সমালোচনা করেছেন ব্যাশেলেট। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার প্রতি আমার আহবান থাকবে, তারা যেন জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়।’

সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা