kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

রক্ষণশীল প্রেসিডেন্টই পেতে যাচ্ছে ইরান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রক্ষণশীল প্রেসিডেন্টই পেতে যাচ্ছে ইরান

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গতকাল রাজধানী তেহরানের এক ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের লাইন। ছবি : এএফপি

অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট দিল ইরানের মানুষ। অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি মনোনয়ন না পাওয়ায় অতিরক্ষণশীল প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম রাইসি এই ভোটে সহজ জয় পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে জনগণকে ভোট বর্জনের আহবান জানিয়েছেন বিরোধী রাজনীতিকরা। এর মধ্যে চলছে মহামারি। সব মিলিয়ে এবার ভোটার উপস্থিতি অনেক কম হবে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এবারের নির্বাচনে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। কিন্তু গত বুধবার শেষ মুহূর্তে তিনজন সরে দাঁড়ানোয় প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় চারজনে। তাঁদের মধ্যে রাইসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হচ্ছে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান আবদলনাসের হিমাতিকে, যিনি সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিত। তবে ৬০ বছর বয়সী রাইসির জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

গতকাল সকালে তেহরানে প্রথম ভোট দেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। সেই সঙ্গে সব ভোটারকে সকাল সকাল ভোট দেওয়ার আহবান জানান তিনি। খামেনি বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি ভোট দেবেন, ততই ভালো।’

যাঁরা ভোট দিয়েছেন কিংবা যাঁরা দেননি, প্রত্যেকেরই নিজস্ব যুক্তি ছিল। গাড়ির মেরামতকারী নাসরুল্লাহ বলেন, ‘আমি রাজনীতিক নই; রাজনীতির কিছু বুঝিও না। আমি শুধু এটুকুই বুঝি যে আমার টাকা নেই। সব পরিবারই অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আছে। যারা এই অবস্থার জন্য দায়ী, আমি কিভাবে তাদের ভোট দেব।’

সাহেবিয়ান নামের এক নার্স বলেন, ‘আমি রাইসির সমর্থক। কারণ, তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

ইরানের সর্বশেষ পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪৩ শতাংশ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এর চেয়ে কম ভোট পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা পর্যন্ত ভোট চলার কথা। ফল ঘোষণার কথা আজ শনিবার দুপুরে। কোনো প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে আগামী ২৫ জুন আবার ভোট হবে। সেখানে লড়াই হবে গতকালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে। বিজয়ী প্রার্থী আগামী আগস্টে হাসান রুহানির হাত থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। টানা আট বছরের দায়িত্ব পালনকালে অতিরক্ষণশীল রুহানির সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ২০১৫ সালে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে করা জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) শীর্ষক পরমাণু চুক্তি। যদিও ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরে দাঁড়ানোয় চুক্তিটি অকেজো হয়ে পড়ে। পরিণতি হিসেবে নানা রকমের কঠোর নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয় ইরানকে।

ইরানে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাই সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা ভোগ করেন। তবে শিল্প থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রনীতিসহ বেশ কিছু বিষয়ে প্রেসিডেন্টও অনেক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যদিও পরমাণু চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খামেনির হাতেই রয়েছে। এ কারণে পশ্চিমাদের প্রতি ‘অবিশ্বাসী’ রাইসি প্রেসিডেন্ট হলেও এই ইস্যুতে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারবেন না। এ ছাড়া তিনি খামেনির অনুগত হিসেবেও বেশ পরিচিত। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা