kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

রুহানির উত্তরসূরি বাছাই হবে আজ

অতিরক্ষণশীল রাইসির জয়ের সম্ভাবনা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রুহানির উত্তরসূরি বাছাই হবে আজ

অর্থনৈতিক মন্দা ও করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া ইরানে আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন চার প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে অতিরক্ষণশীল প্রার্থী ইব্রাহিম রাইসির জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, রাইসি প্রেসিডেন্ট হলে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। গত বুধবার শেষ মুহূর্তে তিনজন সরে দাঁড়ানোয় প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় চারজনে। এর মধ্যে রাইসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হচ্ছে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান আবদলনাসের হিমাতিকে, যিনি সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিত। তবে ৬০ বছর বয়সী রাইসির জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে এবারের নির্বাচনে লড়তে পারবেন না টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা হাসান রুহানি। আট বছরের দায়িত্বকালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পরমাণুচুক্তি করাই ছিল রুহানির সবচেয়ে বড় অর্জন। যদিও ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরে দাঁড়ানোয় চুক্তিটি অকেজো হয়ে পড়ে। পরিণতি হিসেবে নানা রকমের কঠোর নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয় ইরানকে।

ইরানের বিচার বিভাগের সাবেক প্রধান রাইসি বরাবরই পশ্চিমাদের কঠোর সমালোচক। পশ্চিমাদের তিনি প্রায়ই ‘সবচেয়ে বড় শয়তান’ আখ্যা দেন। পশ্চিমাদের বিশ্বাস করায় রুহানির তীব্র সমালোচনাও করতেন তিনি।

এ অবস্থায় রাইসি বিজয়ী হলে পশ্চিমাদের প্রতি ইরানের অবস্থান পাল্টে যেতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে চলমান আলোচনাও ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের। যদিও সংস্কারবাদীদের সঙ্গে টেলিভিশন বিতর্কে এই ইস্যুটি এড়িয়ে গিয়ে রাইসি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষত মেরামত করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ইতালির ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের গবেষক ক্লেমেন্ট থেরমি বলেন, ইরানের বেশির ভাগ মানুষ চায় যে পরমাণুচুক্তি আবার কার্যকর হোক। নতুন প্রেসিডেন্ট হয়তো এর বাইরে যাবেন না। এ ছাড়া পরমাণু কর্মসূচিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খামেনির হাতে। আর রাইসি খামেনির অনুগত হিসেবেই পরিচিত।

আজকের নির্বাচনে কোনো প্রার্থী এক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে ২৫ জুন আবার ভোট হবে। তাতে লড়াই হবে আজকের ভোটের শীর্ষস্থান পাওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও জার্মানির আলোচনা চলছে। তাতে পরোক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রও। তবে সেই আলোচনায় এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা