kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

চীনের সামরিক তৎপরতা নিয়ে ন্যাটোর হুঁশিয়ারি

‘অতিরঞ্জিত’ বলল বেইজিং

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনের সামরিক তৎপরতা নিয়ে ন্যাটোর হুঁশিয়ারি

জি-৭ সম্মেলনের পর এবার ন্যাটো সম্মেলনেও চীনবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করেছেন পশ্চিমা নেতারা। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। চীনের সামরিক পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে ন্যাটোর চীনবিরোধী আশঙ্কা প্রকাশকে ‘অতিরঞ্জিত’ আখ্যা দিয়েছে বেইজিং। পশ্চিমারা যেন চীনের উন্নয়নের অন্য কোনো ‘গ্রহণযোগ্য’ ব্যাখ্যা দাঁড় করান, সেই পরামর্শও দিয়েছে চীনা নেতৃত্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো গত সোমবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সংস্থার সদর দপ্তরে সম্মেলনের আয়োজন করে। ন্যাটোর এই শীর্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, রাশিয়া ও চীনের সামরিক সখ্য ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর চিন্তার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গের মতে, সামরিক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে ন্যাটোকে ছুঁয়ে ফেলেছে চীন। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘চীনের সঙ্গে কোনো স্নায়ুযুদ্ধে জড়ানোর অভিপ্রায় আমাদের নেই। কিন্তু ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে আরো শক্তিশালী নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

ন্যাটোর শীর্ষ বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা চীন এসব কথার জবাব দিতে দেরি করেনি। গতকাল মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) নিযুক্ত চীনের মিশন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। মিশনের বিবৃতিতে এক বাক্যে ন্যাটোর প্রতি বেশ কয়েকটি অভিযোগ এনে বলা হয়, ‘চীনের উন্নয়নকে যেন যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীনা হুমকি তত্ত্ব বানিয়ে সেটাকে নানাভাবে অতিরঞ্জিভাবে উপস্থাপন যেন বন্ধ করা হয়।’ চীনের সঙ্গে পশ্চিমারা কৃত্রিম দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করছে অভিযোগ এনে চীনা মিশন বলে, পশ্চিমারা নিজেদের দলবাজির যৌক্তিকতা দেখাতে দিয়ে যেন চীনের বৈধ স্বার্থ ও বৈধ অধিকারের বিরুদ্ধে না দাঁড়ায়। চীনবিরোধী অবস্থান ধরে রাখা ন্যাটো নেতাদের স্নায়ুযুদ্ধকালীন মানসিকতায় আটকে থাকার পরিচয় বলেও বিবৃতিতে মন্তব্য করা হয়।

এর আগে বিশ্বের শীর্ষ সাত ধনী দেশের জোট জি-৭ চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অবকাঠামো সহায়তা পরিকল্পনা ঘোষণা করে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের লাখ-কোটি ডলারের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের জবাবে গত শনিবার ওই বিশাল পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।

পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে কারবিস বে-র অবকাশযাপন কেন্দ্রে একত্র হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা ও জাপান বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছে, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিকল্প প্রস্তাব তারা দিতে পারে। অথচ জি-৭ ঘোষিত সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পে অর্থ জোগান দিতে গিয়ে জি-৭ জোট ঋণে জর্জরিত হয়ে যেতে পারে।

জি-৭-এর ওই প্রকল্প ঘোষণার পরই ন্যাটো জোট চীনকে নিয়ে কড়া বার্তা দিল। প্রতিক্রিয়া জানাল চীনও। সূত্র: এএফপি।