kalerkantho

শনিবার । ১৬ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩১ জুলাই ২০২১। ২০ জিলহজ ১৪৪২

ইরানে যেভাবে অভিযান চালায় ইসরায়েল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কিভাবে ইরানে অভিযান চালিয়ে আসছে, সেসবের রোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেছেন মোসাদ প্রধানের দায়িত্ব থেকে সদ্যোবিদায়ি ইয়োসি কোহেন। গত সপ্তাহেই অবসরে গেছেন তিনি।

২০১৮ সালে ইরানের পরমাণু আর্কাইভ থেকে কিভাবে হাজার হাজার নথিপত্র চুরি করা হয়, সেটারও বিস্তারিত তুলে ধরেছেন কোহেন। তিনি আরো ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনা নাতাঞ্জে চালানো ধ্বংসযজ্ঞ এবং ইরানের একজন পরমাণুবিজ্ঞানীর হত্যার পেছনেও ইসরায়েল জড়িত। ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-এর সাংবাদিক ইলানা ডায়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হয়।

বিবিসির নিউজ অনলাইনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সম্পাদক রাফি বের্গ বলেন, মোসাদের সাবেক প্রধানদের সাক্ষাৎকার দেওয়া কিংবা নির্দিষ্ট কিছু বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরা নতুন নয়। কিন্তু কোহেন এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা বিস্ময়কর। এই প্রথম কোনো মোসাদ প্রধান স্বীকার করার কাছাকাছি গেছেন যে ইরানের ভূগর্ভস্থ পরমাণুকেন্দ্রে নাশকতার পেছনে ইসরায়েল জড়িত।

২০১৫ সালে মোসাদ প্রধান হিসেবে কোহেনকে নিয়োগ দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে রোমহর্ষক অংশ ইরানের পরমাণু আর্কাইভ থেকে চুরির বর্ণনা। ইরানে ওই অভিযানের প্রস্তুতি নিতে তাঁদের দুই বছর লেগেছে। সেখানে ২০ জন মোসাদ এজেন্ট অংশ নিয়েছিলেন, যাঁদের একজনও ইসরায়েলি নাগরিক নন। ওই অভিযানে অংশ নেওয়া সবাই বেঁচে ফিরে এসেছেন এবং ভালো আছেন, যদিও তাঁদের কয়েকজনকে ইরান থেকে বের করে আনা হয়েছে বলে কোহেন জানিয়েছেন। তেল আবিবের একটি কমান্ড সেন্টার থেকে ওই অপারেশন নজরদারি করেন মোসাদ প্রধান।

সাক্ষাৎকারের শুরুর দিকে ইরানের নাতাঞ্জ পরমাণুকেন্দ্রের বিষয়ে বলেন কোহেন। ইরান জানিয়েছিল, ২০২০ সালের জুলাইয়ে ওই নাশকতার ঘটনায় নাতাঞ্জ পরমাণুকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অংশে আগুন লাগে। এই বছরের এপ্রিল মাসে নতুন সরঞ্জাম সংযোজনের পরদিনই কর্মকর্তারা জানান, সেখানে আবার নাশকতার ঘটনা ঘটেছে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে কোহেন ইরানের শীর্ষ পরমাণুবিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদকে নিয়েও কথা বলেন, যিনি গত নভেম্বরে তেহরানের উপকণ্ঠে একটি সড়কে গুপ্তঘাতকের হামলায় নিহত হন। ওই হামলার জন্য প্রকাশ্যেই ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে ইরান। ওই মৃত্যুর সঙ্গে মোসাদের সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার বা অস্বীকার করেননি সাবেক প্রধান। কিন্তু তিনি বলেছেন, ওই বিজ্ঞানীকে বহু বছর ধরে ‘টার্গেট’ করা হয়েছিল, কারণ তাঁর বৈজ্ঞানিক জ্ঞান মোসাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল।

সূত্র : বিবিসি।