kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

ভবিষ্যৎ মহামারি ঠেকাতে একাট্টা জি-৭

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভবিষ্যৎ মহামারি ঠেকাতে একাট্টা জি-৭

আগামী দিনে যেকোনো মহামারি কিংবা রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় একটি রূপরেখা দাঁড় করিয়েছে ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭। গতকাল শনিবার জোটের সম্মেলনে এই রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। এর আগের দিন গরিব দেশগুলোকে ১০০ কোটি ডোজ করোনার টিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন জোটের নেতারা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মহামারি মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণই এবারের সম্মেলনের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। এর মধ্য দিয়ে ‘দৃঢ়প্রত্যয়ী’ চীন ও ‘অবাধ্য’ রাশিয়াকে নিজেদের গণতান্ত্রিক ঐক্যের জানানটাও দিতে চান জি-৭ নেতারা।

গতকাল যে রূপরেখা ঘোষণা করা হয়, এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘কারবিস বে ডিক্লারেশন’। এতে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতির কথা রয়েছে। এর মধ্যে যেকোনো রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ১০০ দিনের মধ্যে টিকা তৈরির কাজ শুরু করা, সবাইকে টেস্টের আওতায় আনা এবং চিকিৎসা শুরুর কথা বলা হয়েছে। আজ রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই রূপরেখা প্রকাশ করার কথা।

গত শুক্রবার ইংল্যান্ডে শুরু হয় জোটের তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন। এতে অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা। মহামারি শুরুর পর এই প্রথম সশরীরে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন জোটের নেতারা। মহামারির কারণে গত বছরের সম্মেলন বাতিল হয়ে যায়। আজ সম্মেলনের তৃতীয় দিনে জলবায়ু ইস্যু নিয়ে কথা বলবেন নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জি-৭-এর প্রতি খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়ে জোটের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে এবারের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন ট্রাম্পের উত্তরসূরি জো বাইডেন।

সম্মেলনের প্রথম দিন জোটের নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী বছরের মধ্যে তাঁরা অনুদান হিসেবে গরিব দেশগুলোকে করোনার ১০০ কোটি ডোজ টিকা দেবেন। কিন্তু এ নিয়ে কাজ করা সংস্থা কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, টিকা দেওয়ার সময়সীমা বেশি হয়ে গেছে। অবিলম্বে করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইলে আরো অল্প সময়ের মধ্যে আরো বেশিসংখ্যক টিকা অনুদান দিতে হবে।

সম্মেলনের গতকালের আলোচ্যসূচিতে মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের বিষয়টিও ছিল। বাদ যায়নি বেলারুশে গণতন্ত্রকামীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়নের বিষয়টিও।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এবারের সম্মেলনে চীন ও রাশিয়া ইস্যুতে জোর দেবেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু চীনের বিরোধিতা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় নয়, এখানে চীনের বাইরে গিয়ে বিকল্প একটি ইতিবাচক লক্ষ্য নির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’ ওই কর্মকর্তা বলেন, এবারের সম্মেলনে চীনের নানা তৎপরতা নিয়ে জো বাইডেন কথা বলবেন।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথম বিদেশ সফর করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আট দিনের এই সফরে ইংল্যান্ড থেকে ব্রাসেলসে যাবেন তিনি। সেখানে ন্যাটো সম্মেলনে জি-৭-এর বেশির ভাগ নেতাই উপস্থিত থাকবেন। তবে ন্যাটো সম্মেলনের আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বাইডেন। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা