kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

জাতিসংঘের প্রতিবেদন

তাইগ্রেতে দুর্ভিক্ষ মৃত্যুঝুঁকিতে ৩০ হাজার শিশু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইথিওপিয়ার তাইগ্রে অঞ্চলে ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে। অপুষ্টিতে ভুগছে হাজারো শিশু। এ ছাড়া ওই অঞ্চলের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

সম্প্রতি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সেখান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)। গত বুধবার এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

জাতিসংঘের ত্রাণবিষয়ক কার্যক্রমের প্রধান মার্ক লোকক তাইগ্রে নিয়ে গঠিত ইন্টার এজেন্সি স্ট্যান্ডিং কমিটির (আইএএসসি) সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিও এই কমিটির অংশ।

মার্ক লোকক বলেন, ‘সেখানে এখন দুর্ভিক্ষ চলছে। পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে।’ এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী আমহারা ও আফার এলাকার পরিস্থিতিও প্রায় একই রকম বলে জানানো হয়। জাতিসংঘের বিশ্লেষণে বলা হয়, সেখানকার খাদ্যসংকট ‘বিপর্যয়ের’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেখানকার মানুষ অনাহারে থাকছে, মারা যাচ্ছে। তাইগ্রে পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে ও এর বাইরের অন্তত ১৮টি সংস্থার প্রধানদের নিয়ে গঠিত আইএএসসির এক নথিতে বলা হয়, ‘দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি নিয়ে আইপিসির ওই মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, তাইগ্রেজুড়ে সাড়ে তিন লাখ মানুষ ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিতে আছে। ওই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেওয়া এড়াতে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য এবং কৃষি ও জীবনধারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া দরকার বলে জানানো হয়। অবশ্য আইপিসির এ মূল্যায়ন নিয়ে ইথিওপিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়।

এ অঞ্চলের সংকট সমাধান ও বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে আশু পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ও জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।

লোকক জানান, ইথিওপিয়ার এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯৯১ সালে টিপিএলএফের নেতৃত্বে ইথিওপিয়া থেকে সামরিক সরকার উত্খাত করা হয়। এরপর শান্তিতে নোবেলজয়ী আবি আহমেদ ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশটির রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ ছিল এই গোষ্ঠীর হাতে। কিন্তু গত বছর ইথিওপিয়ার ফেডারেল সেনাবাহিনী ও টিপিএলএফের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের জেরে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। সংঘর্ষ শুরুর পর সেখানে কোনো সাহায্য সংস্থাকে ঢুকতে দিতে চায়নি আবি আহমেদের সরকার। সূত্র : রয়টার্স।



সাতদিনের সেরা