kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

দরিদ্রদের ১০০ কোটি ডোজ টিকা দেবে জি-৭

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দরিদ্রদের ১০০ কোটি ডোজ টিকা দেবে জি-৭

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালের কারবিন বেতে জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়ে পরস্পরের কনুই ঠেকিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো (বাঁয়ে), যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও তাঁর স্ত্রী ক্যারি জনসন। ছবি : এএফপি

দরিদ্র দেশগুলোকে করোনাভাইরাসের টিকাদানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর এবার আসছে জি-৭ জোটের ঘোষণা। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর এ জোট দরিদ্র দেশগুলোকে আগামী দুই বছরে ১০০ কোটি ডোজ টিকা দান করবে, এমন অঙ্গীকার আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন পর্যবেক্ষকরা। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও আশার বাণী শুনিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে গতকাল শুক্রবার শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলনে এসংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে।

মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে গত বুধবার ফাইজার-বায়োএনটেকের ৫০ কোটি ডোজ টিকা বিতরণের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পরদিন বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী জনসন প্রতিশ্রুতি দেন, তাঁর দেশে উদ্বৃত্ত থাকা কমপক্ষে ১০ কোটি ডোজ টিকা দরিদ্র দেশগুলোতে বিতরণ করা হবে।

জনসন বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জেরে আমরা এমন একটি অবস্থানে যেতে পেরেছি, যেখানে আমাদের কাছে টিকার উদ্বৃত্ত ডোজ রয়েছে এবং সেগুলো আমরা তাদের দেব, যাদের এটা দরকার। আর এর মাধ্যমে মহামারিকে পরাজিত করার পথে আমরা অনেক বড় একটি পদক্ষেপ নিতে পারব।’ ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে টিকাদান শেষ করার স্বার্থে জি-৭ নেতারা টিকাদানে এগিয়ে আসেন, সেই আহবানও জানিয়েছেন জনসন।

যুক্তরাজ্যের কারবিস বে-তে গতকাল শুক্রবার শুরু হয় জি-৭ জোটের তিন দিনের শীর্ষ সম্মেলন। এ সম্মেলনে ১০০ কোটি ডোজ টিকা সহায়তা হিসেবে বিতরণের ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। আপাতদৃষ্টিতে টিকার ডোজের সংখ্যাটা বড় মনে হলেও সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগ সাগরে কয়েক ফোঁটা পানি ফেলার মতো।

অক্সফামের হিসাবে প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ করোনার টিকার জন্য কোভ্যাক্স কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে আছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে টিকা বিতরণ করা হচ্ছে। অক্সফাম আরো জানিয়েছে, সবাইকে টিকার আওতায় আনতে গেলে ১০০ কোটি নয়, আসলে দরকার এক হাজার ১০০ কোটি ডোজ টিকা।

বিশ্বের জনসংখ্যা ৮০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং বেশির ভাগ মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া প্রয়োজন, এমন বাস্তবতা তুলে ধরে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দরিদ্র দেশগুলোকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে বটে, তবে তা করতে হবে অত্যন্ত দ্রুত। আর সে জন্য বিশ্বনেতাদের আরো অনেক বেশি তৎপর হতে হবে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনে করোনা মহামারি শুরুর চার মাসের মধ্যে তা বৈশ্বিক রূপ ধারণ করে। বিশ্বে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ মহামারিতে মারা গেছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। বিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে করোনার টিকা বাজারে আনতে পারলেও সবার জন্য তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সবাইকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলে তবেই শুধু এই মহামারি থামানো সম্ভব।

গুরুত্ব পাচ্ছে জলবায়ু ইস্যুও : জি-৭ নেতাদের আলোচ্যসূচিতে থাকছে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ বিষয়ক আলোচনাও। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ ভূখণ্ড ও জলভাগকে সুরক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হতে পারে সম্মেলনে। দরিদ্র দেশগুলোকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে সরিয়ে বিকল্প কিছু ব্যবহারে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে তাদের যে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন, সেটা নিয়েও কথা বলবেন জোট নেতারা।

সম্মেলনে নারীশিক্ষাও গুরুত্ব পাবে। মহামারি অন্যান্য অনেক খাতে মতো বিশ্বজুড়ে শিক্ষা খাতকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ অবস্থায় ২০২৫ সালের মধ্যে আরো চার কোটি মেয়েশিশুর স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করতে কথা বলবেন বিশ্বনেতারা। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা