kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

শ্রমে-ঘামে প্রতি ১০ শিশুর একজন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রমে-ঘামে প্রতি ১০ শিশুর একজন

বিশ্বে গত দুই দশকের মধ্যে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা এখন সর্বোচ্চ। প্রতি ১০ শিশুর একজন শ্রমিকের খাতায় নাম লিখিয়েছে। ২০২০ সালের শুরুতেই সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ১৬ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও জাতিসংঘ শিশু সংস্থা ইউনিসেফের যৌথ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

শিশু শ্রমিক কমার যে ধারা বিশ্বে শুরু হয়েছিল, তা উল্টে গিয়ে আবার বিপুল সংখ্যায় বেড়েছে। আইএলও-ইউনিসেফের যৌথ প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা কমেছিল ৯ কোটি ৪০ লাখ। এর পর থেকেই সংখ্যাটা বাড়তে শুরু করে। চার বছরে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ৮৪ লাখ বেড়ে ২০২০ সালের শুরুর দিকে তা ১৬ কোটিতে দাঁড়ায়। করোনাভাইরাস মহামারি এই পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের আশঙ্কা, আগামী দেড় বছরের মধ্যে আরো প্রায় পাঁচ কোটি শিশু এই পথে পা বাড়াবে।

ইউনিসেফের প্রধান হেনরিয়েত্তা ফোরে বলেন, ‘শিশুশ্রম নির্মূলের লড়াইয়ে আমরা হেরে যেতে বসেছি। কভিড-১৯ সংকট পরিস্থিতিকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক লকডাউনের দ্বিতীয় বছর চলছে, স্কুল বন্ধ রয়েছে, অর্থনীতি বিধ্বস্ত, জাতীয় বাজেট সংকুচিত। এমন অবস্থায় হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে পরিবারগুলো।’

যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারির কারণে দারিদ্র্য যেভাবে বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাতে ২০২২ সালের শেষ দিকে আরো ৯০ লাখ শিশু নতুন করে শ্রমিকের তালিকাভুক্ত হবে।

ইউনিসেফের পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞ ক্লডিয়া কাপ্পার মতে, চিত্রটা হতে চলেছে আরো ভয়াবহ। তাঁর অভিমত, মহামারির কারণ আরো কৃচ্ছ সাধনের পথ ধরলে তাতে যদি সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বর্তমানের চেয়েও কমে যায়, তবে আগামী দেড় বছরের মধ্যে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা চার কোটি ৬০ লাখ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এসব শিশুর ৭০ শতাংশই কৃষি খাতে নিযুক্ত, যার পরিমাণ ১০ কোটি ১২ লাখ। এ ছাড়া সাত কোটি ৯০ লাখ শিশুকে এমন কাজে নিযুক্ত করা হচ্ছে, যা তাদের জন্য কঠিন। এ সংখ্যাটি গত চার বছরে ৬৫ লাখ বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী লকডাউন, স্কুল বন্ধ, সরকারগুলোর ব্যয় সংকোচন নীতি ও অর্থনৈতিক দুরবস্থায় এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার স্বল্প ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোয় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, বর্তমানে শিশু শ্রমিকদের মধ্যে ছেলের সংখ্যা বেশি। সংখ্যাটি ৯ কোটি ৬০ লাখ। তবে গৃহস্থালির কাজকে হিসাবে নেওয়া হলেও ছেলে ও মেয়ে শিশুর সংখ্যার ব্যবধান প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

প্রতিবেদনটিতে দেখা গেছে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বিরাজ করছে আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে। এ অঞ্চলের এক-চতুর্থাংশ শিশুই এ পথে নিযুক্ত, যাদের প্রত্যেকের বয়স পাঁচ থেকে ১৭-এর মধ্যে। অন্যদিকে প্রতিবেদনে বৈষম্যের বিষয়টিও দেখা গেছে সুস্পষ্টভাবে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় শিশু শ্রমিকের হার মাত্র ২.৩ শতাংশ। সূত্র : এএফপি।