kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

বাড়তি টিকা গরিব দেশকে দিতে বলল ইউনিসেফ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাড়তি টিকা গরিব দেশকে দিতে বলল ইউনিসেফ

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক তহবিল ইউনিসেফ বলেছে, অবিলম্বে দরিদ্র দেশগুলোকে দান না করলে ধনী দেশগুলোর হাতে থাকা লাখ লাখ বাড়তি টিকা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। প্রতিশ্রুতির পরও ধনী দেশগুলো বাড়তি টিকা দানের ব্যাপারে গুরুত্ব না দেওয়ায় এই সতর্কবার্তা দিল ইউনিসেফ।

এদিকে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের রেশ না কাটতেই তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে। ঢিলেঢালা টিকা কর্মসূচি ও কঠোর বিধি-নিষেধের অভাবে এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে ভারতে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা এক লাখের নিচে নেমে এসেছে। কমে আসছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও।

গতকাল বিবিসির এক খবরে বলা হয়, ধনী দেশগুলোকে ‘এখনই টিকা দান’ করতে ইউনিসেফ যে অনুরোধ জানিয়েছে, তাতে বিলি আয়লিস ও ডেভিড বেকহামের মতো তারকারাও সংহতি জানিয়েছেন। শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট ‘জি-৭’-কে লেখা এক চিঠিতে এসব তারকা সই করেছেন। ওই চিঠিতে জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আগস্টের মধ্যে তাদের মজুদের ২০ শতাংশ টিকা দান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বেকহাম বলেছেন, ‘সব জায়গায় মহামারি শেষ না হলে কোথাও শেষ হবে না।’

ইউনিসেফের লিলি কাপরানি বলেছেন, ‘একটা পর্যায়ে গিয়ে আমাদের অবশ্যই ১৮ বছরের কম বয়সীদেরও টিকা দিতে হবে। কিন্তু এই মুহৃর্তে সমগ্র বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সবার আগে টিকা দিতে হবে।’

কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ব্রাজিলে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে গতকাল পর্যন্ত সেখানে মৃত্যু হয়েছে চার লাখ ৭৪ হাজার ৬১৪ জনের। ২১ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ৭০ লাখের বেশি, যা বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ। গত জুলাইয়ে করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় ব্রাজিলে দৈনিক গড় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার। কিন্তু এই বছরের এপ্রিলে দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় তিন হাজার। বর্তমানে দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন এক হাজার ৬০০ মানুষের প্রাণ কাড়ছে করোনা। এ অবস্থায় তৃতীয় ঢেউ শুরু হলে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যায় নতুন রেকর্ড হতে পারে বলে মনে করছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, ব্রাজিলে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। অনেক বিধি-নিষেধও তুলে নেওয়া হয়েছে। টিকা কর্মসূচিও চলছে কচ্ছপগতিতে। এ অবস্থায় শীতকাল চলে এসেছে। ফলে তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানার জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাশের দেশ ভারতে দুই মাসের বেশি সময় পর দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখের নিচে নেমেছে। গতকাল দেশটিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৮৭ হাজার ৩৪৫ জন। এর আগে ৩ এপ্রিল শনাক্ত রোগীর সংখ্যা (৯২ হাজার ৯৯৮) এক লাখের নিচে ছিল। ভারতে মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গতকাল দেশটিতে দুই হাজার ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

সার্বিক পরিস্থিতি : বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ২২০টি দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১৭ কোটি ৪৪ লাখের বেশি। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ৩৭ লাখ। সেরে ওঠার সংখ্যাও কম নয়; ১৫ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। চিকিত্সাধীন আছে প্রায় এক কোাটি ২৯ লাখ মানুষ। এদের মধ্যে মৃদু উপসর্গ রয়েছে এক কোটি ২৮ লাখ মানুষের (৯৯.৩ শতাংশ)। বাকিদের (দশমিক ৭ শতাংশ) অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিশ্বে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২২ হাজার ৩৭৭ জন। আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার ২ শতাংশ। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।



সাতদিনের সেরা