kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

ভয়ংকর হতে চলেছে দ. এশিয়ার বর্ষা

গবেষণা প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভয়ংকর হতে চলেছে দ. এশিয়ার বর্ষা

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর কাছে কেলানিয়া এলাকা গতকাল বন্যায় তলিয়ে যায়। ছবি : এএফপি

বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিবৃষ্টি, সেই সঙ্গে বেশি বিপদ ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে চলেছে দক্ষিণ এশিয়ার বর্ষাকাল। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে এমন হুঁশিয়ারি।

আগের বিভিন্ন গবেষণা থেকে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারছিলেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বেড়ে যাওয়ায় তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে বাড়তি আর্দ্রতা গ্রীষ্ম-বর্ষাকে আরো বেশি বর্ষণপ্রবণ করে তুলছে। বর্ষণের কোনো পূর্বাভাসই যেন টিকছে না। গত শুক্রবার সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটি বিজ্ঞানীদের সেই উপলব্ধির পক্ষে নতুন প্রমাণ হাজির করেছে। গত ১০ লাখ বছরে জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা প্রতিবেদনে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে, কেমন হতে পারে আগামীর বর্ষাকাল।

দক্ষিণ এশিয়ায় মোটামুটি জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বর্ষাকাল ধরা হয়। প্রতি বর্ষায় গোটা অঞ্চলে ধুয়ে বিপুল পলি নিয়ে বৃষ্টির পানি পৌঁছে বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগরে। সাগরের ভূস্তর খনন করে বিজ্ঞানীরা সেই নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সেই পলির নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা গত ১০ লাখ বছরের বর্ষার একটি চিত্র দাঁড় করিয়েছেন।

এই গবেষণার নেতৃত্বে থাকা ব্রাউন ইউনিভার্সিটির আর্থ, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেসের অধ্যাপক স্টিভেন ক্লেমেন্স বলেন, ‘গত ১০ লাখ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে যাওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে যায়। ফলে জলবায়ু মডেলগুলোর যে পূর্বাভাস আমরা এত দিন পেয়ে আসছি, সেসবের সঙ্গে লাখো বছরের প্রবণতা দারুণভাবে মিলে যাচ্ছে।’

জার্মানির পোস্টড্যাম ইনস্টিটিউটের ক্লাইমেট ডাইনামিকসের অধ্যাপক অ্যান্ডার্স লিভারম্যান নতুন এই গবেষণায় যুক্ত না থাকলেও মৌসুমি বায়ু নিয়ে বিভিন্ন মডেল ধরে গবেষণা করেছেন এর আগে। তিনি বলেন, জলবায়ু মডেল ধরে তাঁদের পূর্বাভাসকেন্দ্রিক গবেষণার সঙ্গে নতুন এই গবেষণার ফলাফল মিলে যাওয়ায় তিনি স্বস্তি পাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘এবারের গবেষণায় যে বিপুল তথ্য এসেছে, সেটা অসাধারণ। পৃথিবীর ইতিহাসের লাখ লাখ বছরের কথা বলছে এসব তথ্য। প্রকৃতির যে নিয়ম আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি, তা ওই ভূস্তরে স্পষ্ট ছাপ রেখে যাচ্ছে।’ আর এই ঘটনাপ্রবাহ দক্ষিণ এশীয়দের জন্য দুর্দিন নিয়ে আসছে বলে নিশ্চিত লিভারম্যান। তিনি বলছেন, সাম্প্রতিক বর্ষা মৌসুমগুলোতে বৃষ্টির আর ক্ষতির পরিমাণ এমনিতেই বেড়ে গেছে। কিন্তু ভবিষ্যতের যে ঝুঁকির আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা হবে বিপর্যয়কর। ঋতু বৈচিত্র্য যেভাবে পাল্টে যাচ্ছে, তাতেও প্রাণ ও প্রতিবেশের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস।



সাতদিনের সেরা