kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

আপাতত হামলা বন্ধের ইচ্ছা নেই ইসরায়েলের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আপাতত হামলা বন্ধের ইচ্ছা নেই ইসরায়েলের

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে সোমবার হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়ে এই দুই শিশু। ছবি : এএফপি

ফিলিস্তিনিদের নিশানা বানিয়ে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত আছে। ইসরায়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলা বন্ধের কোনো চিন্তাও তাদের মাথায় আপাতত নেই। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, এই সংঘাত ছড়িয়ে যেতে পারে ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের সীমানায়ও। তাদের এই আশঙ্কা অনেকটা বাস্তবে রূপ নিয়েছে; লেবাননের সীমানায় কয়েক দফা বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

এদিকে উভয় পক্ষকে একটি শান্তিচুক্তিতে রাজি করাতে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ফ্রান্স, মিসর ও জর্দানের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। গতকাল রাতে এই বৈঠক হওয়ার কথা। একই দিন জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও।

চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলি বাহিনী জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকার কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়। মূলত এ ঘটনার পরই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় জেরুজালেমে। এর মধ্যে হামাসের রকেট হামলার জবাবে গাজায় ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ১০ মে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এই হামলায় গতকাল পর্যন্ত ৬১ শিশুসহ প্রাণ গেছে ২১২ ফিলিস্তিনির।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, গতকাল সকালেও গাজায় কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আগের দিন সন্ধ্যায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘গাজায় সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে আমাদের হামলা অব্যাহত থাকবে।’

গতকাল ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার রাতভর তারা গাজার ৬৫টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ৭০টি রকেট ছুড়েছে হামাস।

কাতার রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, কভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য গাজায় মাত্র একটি ল্যাব ছিল। ইসরায়েলের হামলায় সেটি ধ্বংস হয়ে গেছে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার বিশ্বের মধ্যে গাজায় সর্বোচ্চ, ২৮ শতাংশ।

রোবা আবু আল-আওফ নামের স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘ঘরে বসে থাকা ছাড়া আমাদের আর কী করার আছে। আমরা জানি, মৃত্যু যেকোনো সময় দরজায় কড়া নাড়তে পারে। কারণ ইসরায়েলের হামলা তীব্র থেকে আরো তীব্র হচ্ছে।’

ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর গত এক সপ্তাহে তিনবার বৈঠকে বসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার কারণে এখন পর্যন্ত হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে কোনো বিবৃতি নিরাপত্তা পরিষদ দিতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দাবি জানিয়েছেন, আরো বেশি সংখ্যক বিশ্বনেতাকে শান্তি প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তাঁর নিজ দল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাদেরও এতে সম্পৃক্ত করার দাবি তুলেছেন তিনি।

ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষপাতিত্ব কেবল নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি আটকানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম অত্যাধুনিক ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের অস্ত্র ইসরায়েলের কাছে বিক্রি করার অনুমোদন দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। গত সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের অব্যাহত প্রাণঘাতী হামলা সত্ত্বেও মার্কিন আইন প্রণেতারা ওই অস্ত্র বিক্রির চুক্তিতে বাধা দেবেন না বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

এদিকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী গতকাল এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে লেবানন থেকে ছয়টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েলের সীমানায় আসার আগেই সেগুলো ধ্বংস করা হয়। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এসব রকেটের উত্পত্তিস্থল লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।

লেবানন সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শেবা ফার্মস এলাকা থেকে তিনটি রকেট ছোড়া হয়। তবে কারা এই রকেট হামলা চালিয়েছে তা জানা যায়নি। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, এর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় ইসরায়েলকে সাধুবাদ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবিক ত্রাণবিষয়ক শাখা ওসিএইচএর মুখপাত্র জেনস লায়ের্কে বলেন, ‘কেরেম শালম সীমান্ত খুলে দেওয়ায় আমরা ইসরায়েলকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যাতে ইরেজ সীমান্তও খুলে দেয়।’ সূত্র : এএফপি।