kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

করোনা মোকাবেলার অনেক কৌশল ভুল!

প্রাণঘাতী ভাইরাসটি যে বায়ুবাহিত, মেনে নিতেই বছর পার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা মোকাবেলার অনেক কৌশল ভুল!

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস মোকাবেলা নিয়ে শুরু থেকেই গোলকধাঁধায় বিশ্ববাসী। ভাইরাসটি উপস্থিত, এমন কোনো বস্তুর স্পর্শে এবং হাঁচি-কাশির ফলে ছড়ানো ড্রপলেট থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে জানাচ্ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। জাতিসংঘের এই সংস্থার তরফে করণীয় হিসেবে জানানো হয়, অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে, মাস্ক পরতে হবে, রাখতে হবে শারীরিক দূরত্ব। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই স্বাস্থ্যবিধি মহামারি মোকাবেলায় খুব সামন্যই প্রভাব রাখছে। এর চেয়ে ভেন্টিলেশন সিস্টেম উন্নত করা জরুরি। কারণ কভিড-১৯ মূলত একটি বায়ুবাহিত রোগ।

সাধারণত একটি রোগ যেভাবে সংক্রমিত হয়, তার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয় সেটির সংক্রমণ রোধের উপায়। কভিডের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে স্বাস্থ্যবিধি আছে, তা সংক্রমণ থেকে নিরাপত্তা দিতে যথেষ্ট নয় বলে গত বছর থেকেই বলে আসছিলেন একদল বিজ্ঞানী। এ নিয়ে ২০২০ সালের জুলাইয়ে ডাব্লিউএইচও বরাবর খোলা চিঠি লেখেন ৩২টি দেশের ২৩৯ বিজ্ঞানী। বায়ুবাহিত সংক্রমণের বিষয়টি মাথায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি হালনাগাদ করার আহ্বান জানান তাঁরা। এরপর বিভিন্ন পরিসরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর পরিষ্কার অবস্থান দেখা যায়নি। এরই মধ্যে গত এপ্রিলে ল্যানসেট শীর্ষক চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি নিবন্ধ ওই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করে। নিবন্ধে গবেষকরা দাবি করেন, কভিড যে বায়ুবাহিত রোগ, তার সপক্ষে ধারাবাহিক ও দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া গেছে। সে তুলনায় বড় আকারের ড্রপলেটের মাধ্যমে সংক্রমণের প্রমাণ অনেক কম।

গবেষকদের একজন কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোস-লুইস জিমনেজ বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্য জনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর উচিত ভাইরাসটির সংক্রমণের যে বিবরণ তারা দিয়েছে, সেটিকে জরুরি ভিত্তিতে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া। বায়ুবাহিত রোগ হিসেবে চিহ্নিত করার পর এর সংক্রমণ রোধের বিষয়েও অতি দ্রুত মনোনিবেশ করতে হবে।’

করোনা যে বায়ুবাহিত তা এরই মধ্যে স্বীকার করেছে ডাব্লিউএইচও এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)। গত ৭ মে সিডিসি জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির ছয় ফুটেরও বেশি দূরে থাকা কোনো ব্যক্তিও বায়ুবাহিত করোনাভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে।

করোনা মহামারি মোকাবেলায় বিশুদ্ধ বাতাসের গুরুত্বের বিষয়টি উঠে এসেছে গত ১৪ মে প্রকাশিত ‘সায়েন্স’ সাময়িকীর একটি নিবন্ধে। তাতে বলা হয়েছে, উনিশ শতকে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে কলেরা মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছিল। এখন করোনা মোকাবেলায় ভেন্টিলেশন সিস্টেম উন্নত করা জরুরি।

এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিডিয়া মোরাস্কা। তাঁর কথায়, বিশুদ্ধ বাতাস শুধু মহামারি মোকাবেলা সহজ করবে না, বরং ফ্লু ও শ্বাসকষ্টজনিত অন্যান্য রোগ থেকেও মুক্তি দেবে। এ ধরনের রোগ মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর পাঁচ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়।

১৪ দেশের ৩৯ বিজ্ঞানীর করা এই গবেষণায় ভবন বা ঘরের ভেন্টিলেশন সিস্টেম উন্নত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁরা ডাব্লিউএইচওর কাছে দাবি জানিয়েছেন, যেন একটি নীতিমালা করা হয়, যাতে ঘরে প্যাথোজেনমুক্ত (ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) বাতাস চলাচল নিশ্চিত হয়।

বৈশ্বিক মৃত্যু ৩৪ লাখ ছাড়াল : বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে, গতকাল সোমবার পর্যন্ত বিশ্বে ৩৪ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়েছে করোনা। আক্রান্ত হয়েছে ১৬ কোটি ৪০ লাখ মানুষ, যার মধ্যে সোয়া ১৪ লাখ এরই মধ্যে সেরে উঠেছে। সূত্র : বিবিসি, ব্লুমবার্গ।