kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

ডাব্লিউএইচওর হুঁশিয়ারি

মহামারির দ্বিতীয় বছর হবে আরো প্রাণঘাতী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহামারির দ্বিতীয় বছর হবে আরো প্রাণঘাতী

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মহামারি পরিস্থিতির ওঠানামার মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস সতর্ক করে বলেছেন, আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে করোনা পরিস্থিতি। গত শুক্রবার তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, প্রথম বছরের তুলনায় দ্বিতীয় বছরে এই অতিমারি অনেক বেশি প্রাণঘাতী হতে চলেছে।’

আগামী জুলাইয়ে জাপানের টোকিওতে অলিম্পিকের আসর বসার কথা। এর আগে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের অভিঘাত চিন্তায় ফেলেছে ডাব্লিউএইচওকে। এই আবহে প্রতিটি রাষ্ট্রকে সতর্কতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ডাব্লিউএইচও। জাপানের নাগরিকসমাজের একাংশ এরই মধ্যে করোনা আবহে অলিম্পিকের আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

গত সপ্তাহেই ডাব্লিউএইচও করোনার ভারতীয় ধরন বলে চিহ্নিত বি.১.৬১৭ ধরনটিকে ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়েছে। ২০২০ সালের অক্টোবরে প্রথম ভারতে ধরনটির সন্ধান মেলে। এরই মধ্যে তা ৪৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যান্য ধরনের তুলনায় করোনার এই ধরন অনেক দ্রুত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করে ডাব্লিউএইচও।

এদিকে করোনা সংক্রমণের প্রাণঘাতী দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে দৈনিক শনাক্ত নতুন রোগীর সংখ্যা কমলেও মৃত্যু বেড়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গতকাল রবিবার সকালের আগের ২৪ ঘণ্টায় সেখানে তিন লাখ ১১ হাজার ১৭০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আর মৃত্যু হয়েছে চার হাজর ৭৭ জনের।

এদিন নতুন আক্রান্ত আগের দিনগুলোর তুলনায় অনেকটা কম হলেও টানা তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দৈনিক তিন লাখেরও বেশি রোগী শনাক্তের ধারা বজায় ছিল।

ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই কোটি ৪৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে বলে সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে। শনাক্তের এই সংখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত।

তিন দিন ধরে চার হাজারের বেশি মৃত্যু দেখার পর গত শনিবার ভারতে মৃতের সংখ্যা কিছুটা কমেছিল। কিন্তু এক দিন পরই সেখানে মৃতের সংখ্যা আবার চার হাজার ছাড়াল। সব মিলিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ৭০ হাজার ২৮৪ জন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভারতে সংক্রমণ গ্রামাঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ায় বহু আক্রান্ত পরীক্ষার আওতার বাইরে রয়ে গেছে, এতে আক্রান্ত ও মৃতের প্রকৃত সংখ্যা উঠে আসছে না। প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ গুণ বেশি হবে বলে ধারণা তাঁদের। গত ৫ এপ্রিল থেকে ভারতে প্রতিদিন লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। শুধু গত ১০ দিনেই দেশটিতে প্রায় ৪০ লাখ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে মার্চের প্রথম দিকে প্রতি সপ্তাহে ভারতের পরীক্ষার সক্ষমতা প্রায় ৫০ লাখের মতো থাকলেও এখন তা বেড়ে সপ্তাহে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখের মতো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

কয়েক দিন ধরে দৈনিক ২০ হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে লকডাউন জারি করা হয়েছে। গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া ১৫ দিনের এ লকডাউন ৩০ মে পর্যন্ত বজায় থাকবে। এ সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া বাকি সব দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সূত্র : এএফপি, আনন্দবাজার পত্রিকা।